—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
আগামী সপ্তাহের সোমবারই সংসদে মহিলা সংরক্ষণ আইনে সংশোধনী বিল আনতে চাইছে মোদী সরকার। কিন্তু ওই আইনে সংশোধন করতে হলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য সরকারের কাছে যথেষ্ট সাংসদ নেই। এই পরিস্থিতিতে বিরোধী শিবিরের দ্বারস্থ হয়েছে মোদী সরকার। কিন্তু কংগ্রেস এ নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি তুলেছে।
মাত্র আড়াই বছর আগে লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে মোদী সরকার ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করেছিল। তাতে লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের বন্দোবস্ত থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। কারণ আইনে বলা ছিল, জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই আসন সংরক্ষিত হবে। সেই অনুযায়ী ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচনেও মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর সম্ভব হওয়া নয়। আড়াই বছর পরে মোদী সরকার এখন নিজেরই আইনে সংশোধন করে জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত তুলে দিতে চাইছে। যাতে আগামী বছর উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন ও তার পরে ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন থেকেই ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং একই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলা ভোটব্যাঙ্ককে সদর্থক বার্তা দেওয়া যায়। কিন্তু তার জন্য আইনের পাশাপাশি সংবিধানের ৩৬৮(২) অনুচ্ছেদও সংশোধন করতে হবে। মুশকিল হল, তার জন্য বিজেপির কাছে লোকসভা ও রাজ্যসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। এ জন্য শরিকদের সঙ্গে বিরোধীদেরওসমর্থন প্রয়োজন।
কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সম্প্রতি এ বিষয়ে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলির সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনা করেছিলেন। সোমবার রিজিজু কংগ্রেস সভাপতি তথা রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গেকে চিঠি লিখে এই বিলে সমর্থনের অনুরোধ জানান। কংগ্রেস সভাপতির প্রশ্ন, মোদী সরকার কেন সংসদে আইন পাশের ৩০ মাস পরে ফের নিয়ে নতুন করে সক্রিয় হয়েছে? আজ খড়্গে রিজিজুকে চিঠির জবাব দিয়ে দাবি তুলেছেন, এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হোক। তৃণমূল সূত্রের মতে, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই যে মোদী সরকার এখন মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে চাইছে, তাতে সন্দেহ নেই। তবে নীতিগত ভাবে এর বিরোধিতা করা মুশকিল।