Indian Flight

ভারতীয় সংস্থার বিমানে বার বার ত্রুটি, উদ্বেগ

সূত্রের খবর, ডিজিসিএ-র অডিটে বোয়িং ৭৮৭ ও ৭৭৭ বিমানের পাইলটদের প্রশিক্ষণে ঘাটতি, অন্তত চারটি আন্তর্জাতিক বিমানে প্রয়োজনের চেয়ে কম বিমানকর্মী থাকা এবং বিমানে কাজের সময়সীমা লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

সংবাদ সংস্থা
শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩৮

—প্রতীকী চিত্র।

ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলিকে নিয়ে রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করল অসামরিক বিমান চলাচল বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। যাত্রিবাহী বিমানগুলিতে বার বার দেখা দেওয়া ত্রুটির কারণে সুরক্ষা-কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনার আহ্বান জানানো হয়েছেতাদের রিপোর্টে।

বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ডিজিসিএ)-এর একটি নিরীক্ষার উপরে ভিত্তি করে কমিটি তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরীক্ষা করা ৭৫৪টি বাণিজ্যিক বিমানের মধ্যে ৩৭৭টিতেই বার বার প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা গিয়েছে।

সূত্রের খবর, অধিকাংশ সমস্যাই দেখা গিয়েছে টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে। এয়ার ইন্ডিয়ার পরীক্ষিত ১৬৬টি বিমানের মধ্যে ১৩৭টিতেই বার বার ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ১০১টি পরিদর্শন করা বিমানের মধ্যে ৫৪টিতেই ক্রমাগত প্রযুক্তিগত সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। গত বছর আমদাবাদের দুর্ঘটনার পরে ১ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে এয়ার ইন্ডিয়ার উপরে ডিজিসিএ-র একটি সবিস্তার পরিদর্শন চালায়। সেই ফলাফলও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় ১০০টি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে সাতটি ‘লেভল ১’ লঙ্ঘন করেছে।

সূত্রের খবর, ডিজিসিএ-র অডিটে বোয়িং ৭৮৭ ও ৭৭৭ বিমানের পাইলটদের প্রশিক্ষণে ঘাটতি, অন্তত চারটি আন্তর্জাতিক বিমানে প্রয়োজনের চেয়ে কম বিমানকর্মী থাকা এবং বিমানে কাজের সময়সীমা লঙ্ঘনের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে। একটি ক্ষেত্রে, মিলান থেকে নয়াদিল্লিগামী একটি উড়ান অনুমোদিত সময়সীমার দু’ঘণ্টারও বেশি অতিক্রম করে গিয়েছিল। সংসদীয় প্যানেলটি আরও উল্লেখ করেছে, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের জন্য ডিজিসিএ এয়ার ইন্ডিয়াকে ন’টি কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করেছিল।

২০২৫ সালের শেষে দিকে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বিভিন্ন বিমান সংস্থার বিরুদ্ধে ১৯টি নিরাপত্তা লঙ্ঘনের নোটিস জারি করেছিল। এর মধ্যে বিমানে কাজের সময়সীমা লঙ্ঘন, গুণমান নিশ্চিতকরণে ত্রুটি, ককপিটে অনধিকার প্রবেশ এবং মেয়াদ-উত্তীর্ণ জরুরি সরঞ্জাম-সহ বিমান পরিচালনার মতো বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ওড়ার ক্ষমতা পর্যালোচনার বৈধ শংসাপত্র ছাড়াই আটটি এয়ারবাস এ৩২০ বিমান চালানোর জন্য ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এয়ার ইন্ডিয়াকে প্রায় ১ কোটি টাকা জরিমানাকরেছিল ডিজিসিএ।

আরও পড়ুন