Stage Theatre

মানবিকতার অশ্রুসজল মুখ

এই নাটকে কয়েকটি দৃশ্য উল্লেখযোগ্য। প্রথম দৃশ্যটি, যেখানে সমবেত অভিনয়ের মাধ্যমে কাশ্মীরের অস্থির পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা হৃদয়ে ধাক্কা দেয়।

সৌভিক গুহসরকার
শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ১০:০৫

সম্প্রতি রঙ্গকর্মী স্টুডিয়ো থিয়েটারে পরিবেশিত হল রঙ্গকর্মী নাট্যদলের হিন্দি নাটক ‘পশমিনা’। নাট্যকার মৃণাল মাথুর। নাটকটি দীর্ঘ নয়, কিন্তু তার বক্তব্য তীব্র ও স্পষ্ট। এই নাটকের বিষয়— মানবিকতা। অনুচ্চকিত অথচ দৃঢ় ভঙ্গিমায় রাজনৈতিক টালমাটালের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষের মধ্যে যে এখনও ঢের মানবিকতা ও সহমর্মিতা জেগে রয়েছে, সেই আলোর কথাই বুনেছে এই নাটক।

এক মধ্যবয়সি দম্পতিকে নিয়ে নাটকের গল্প— অমর সাক্সেনা ও বিভা সাক্সেনা প্রতি বছর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে বেড়াতে যায়। এদের বেড়ানোর একটি বিশেষত্ব হল— এরা যে প্রদেশেই বেড়াতে যায়, সেখান থেকে বিশেষ কিছু কিনে নিয়ে আসে। একবার অমর ঠিক করে যে কাশ্মীর যাবে। বিভা রাজি হয় না। কারণ অমর ও বিভার একমাত্র পুত্র ক্যাপ্টেন অতুল সাক্সেনা কাশ্মীরের উগ্রপন্থীদের হাতে নিহত হয়। তাই বিভা আর কাশ্মীরে যেতে চায় না। কিন্তু অমর ভাবে, অতুল চেয়েছিল তাদের কাশ্মীরে নিয়ে যেতে, সে চেয়েছিল যে কাশ্মীরের অপরূপ সৌন্দর্য তারা দেখুক। পিতা হিসেবে নিজের পুত্রের অসম্পূর্ণ ইচ্ছে পূরণ করতে চায় সে। অনেক টানাপড়েনের পরে তারা কাশ্মীরে যায়। সেখানে পশমিনা কিনতে এক কাশ্মীরি শালবিক্রেতার দোকানে যায় তারা। সেই শালবিক্রেতার সদ্য কিশোর ছেলেও কাশ্মীরের এই হানাহানিতে প্রাণ হারিয়েছে। যে পশমিনা কিনতে এসেছে আর যে পশমিনা বিক্রি করছে— দু’জনেই পুত্রহারা। দু’জনেই গভীর বিষাদে ডুবে আছে। তবু তাদের মধ্যে ঘটে যায় এক সহজ অকপট ছলনাহীন বিনিময়, যা দর্শকের সামনে তুলে ধরে মানবিকতার অশ্রুসজল মুখ।

এই নাটকে কয়েকটি দৃশ্য উল্লেখযোগ্য। প্রথম দৃশ্যটি, যেখানে সমবেত অভিনয়ের মাধ্যমে কাশ্মীরের অস্থির পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা হৃদয়ে ধাক্কা দেয়। দ্বিতীয় হল, এ নাটকটি সম্ভবত ‘ইন্টিমেট থিয়েটার স্পেস’-এর কথা ভেবেই নির্মাণ করা হয়েছে, তাই এর সাজসজ্জার মধ্যে একটা ‘ইকোনমি’ লক্ষ করা যায়। বাড়তি কিছুই নেই। তৃতীয়ত, এই নাটকে যাঁরা অভিনয় করেছেন নানা ভূমিকায়, তাঁরা প্রত্যেকেই প্রায় নবীন, কয়েকজন বাদে। তাঁরা যে নিবিড় ভাবে অনুশীলন করেছেন, পরিশ্রম করেছেন, সেটা তাঁদের কাজ দেখলে বোঝা যায়।

এই নাটকে প্রথমেই বলতে হয় কাশ্মীরি দোকানদারের ভূমিকায় অনিরুদ্ধ সরকারের কথা। তাঁর শান্ত বিষাদ মুগ্ধ করল। পাশাপাশি সায়ন সূর্য ভট্টাচার্যের রবিন্দর ধিলোঁ চরিত্রটি এ নাটকে প্রাণসঞ্চার করেছে। সুইটি ধিলোঁর ভূমিকায় নেহা বিরারিও চমৎকার করেছেন। অমর সাক্সেনার চরিত্রে শুভম ও বিভা সাক্সেনার ভূমিকায় অনিন্দিতা পাতি— দু’জনেই অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। বাকিরাও যথাযথ। বাদল দাসের আলোকবিন্যাস এ নাটকটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। নাটকটি নির্দেশনা করেছেন সাজিদা সাজি। কিন্তু নাট্যাভিনয়ের দিন তিনি উপস্থিত ছিলেন না। সহ-পরিচালক অনিরুদ্ধ সরকারের তত্ত্বাবধানে এই নাটক পরিবেশিত হয়। কিন্তু নির্দেশক হিসেবে তাঁর নির্মাণ-ভাবনা প্রশংসাযোগ্য। নাটকের শেষে দর্শকের চোখে অশ্রুকণা ফুটিয়ে তুলতে পেরেছে ‘পশমিনা’।

আরও পড়ুন