ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
সংখ্যাতত্ত্ব মতে, ২০২৬ সাল রবির বছর। চলতি বছরের মন্ত্রী গ্রহ মঙ্গল। বিক্রম সমবৎসার অনুযায়ী এটি ২০৮৩ সাল। বিক্রম সমবৎসারের নিরিখে বিচার করে বলা হয়েছে, চলতি বছরটি রুদ্র সমবৎসার বা রাগ এবং উগ্রতার বছর। এ বছর তাই বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাঝেমধ্যেই রাগ, উগ্রতা এবং ধংসের ছাপ দেখতে পাওয়া যাবে। ২০২৬ সালে চোখ রাখলেই বোঝা যাবে যে, হিসাব খানিকটা হলেও মিলেছে। কারণ, বছরের শুরু থেকেই বিশ্বের একাধিক প্রান্তে তৈরি হয়েছে যুদ্ধ পরিস্থিতি।
শাস্ত্রমতে, গ্রহের অবস্থান, গ্রহ-নক্ষত্রের সম্পর্ক রাষ্ট্রের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং প্রাকৃতিক বিষয়ের উপর প্রভাব ফেলে। বর্তমান সময়ের গ্রহের অবস্থান মোটেই শুভ বলা যায় না। এই মুহূর্তে শনির অবস্থান মীন রাশিতে, অর্থাৎ কালপুরুষের দ্বাদশ স্থানে। রাহু এবং কেতু রয়েছে যথাক্রমে কুম্ভে এবং সিংহে। অর্থাৎ, রাহু একাদশ এবং কেতু পঞ্চমে অবস্থান করছে। রাহুর সঙ্গে অবস্থান করছে মঙ্গল। বৃহস্পতি মিথুন রাশিতে অবস্থান করছে। রাহু এবং মঙ্গল একত্রে অবস্থান করবে আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত। পরবর্তী সময়, অর্থাৎ ৩ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত মঙ্গল অবস্থান করবে মীন রাশিতে শনির সঙ্গে।
আগামী ২ এপ্রিল পর্যন্ত, অর্থাৎ রাহু-মঙ্গলের একত্রে অবস্থানের সময়কাল ভাল বলা চলে না। মঙ্গলের রাশি পরিবর্তনের পরে, অর্থাৎ আগামী ৩ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত শনির মঙ্গলের সঙ্গে অবস্থানও অশুভ। তেমনটাই জানাচ্ছে জ্যোতিষশাস্ত্র।
পৃথিবীর যে প্রান্তেই অশান্তি হোক না কেন, অন্যান্য রাষ্ট্রের উপরও সেই আঁচ এসে পড়ে। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারত সরাসরি প্রভাবিত না হলেও, ইতিমধ্যে পরোক্ষ ভাবে কিছুটা সমস্যার আঁচ টের পাচ্ছে। বর্তমানে রান্নার গ্যাস এবং জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্বেগে ভুগছেন দেশবাসী। নানা দিকে নানা রকম তথ্য উড়ে বেড়াচ্ছে। সমস্যা ঠিক কতটা গভীর বা আদৌ চিন্তার কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা সাধারণ মানুষের একাংশের কাছে অজানা।
প্রশ্ন এখন একটাই, সমস্যা যদি থেকেও থাকে, তা হলে তা কত দিন চলবে? আগামী ২০ এপ্রিল শনি এবং মঙ্গল, উভয়েরই অবস্থান হবে কমবেশি ১৩ ডিগ্রিতে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী এর পরে শনির থেকে মঙ্গল যত দূরে যাবে, আশা করা যায় ভোগান্তি তত কমতে থাকবে। তবে রান্নার গ্যাসের দাম এখনই কমবে, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও দেশবাসীকে বিশেষ কোনও সমস্যায় পড়তে হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
এই সময় প্রায় সব গ্রহই রাহু-কেতুর বন্ধনে আবদ্ধ। এই অবস্থানের থেকে গ্রহদের বাইরে আসতে আরও বেশ কয়েক মাস সময় লাগবে। চন্দ্রকে বাদ দিলে, এই অবস্থান থেকে প্রথম বাইরে বেরোবে শুক্র। শুক্র আগামী জুলাই মাসে রাহু-কেতুর বন্ধনমুক্ত হবে। রাহু-কেতুর বন্ধনে সমস্ত গ্রহ থাকার সময়কাল খুবই অনিশ্চিত বলে মনে করছেন জ্যোতিষীরা। এই সময় কী ঘটতে চলেছে তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। সেই কারণে মনে করা হচ্ছে, জুন-জুলাই মাস পর্যন্ত ধারাবাহিক ভাবে নানা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলেও ঘটতে পারে। তবে তা নিয়ে চিন্তা বা ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। গ্রহদের স্থান পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খারাপ সময়েরও পরিবর্তন ঘটবে। তেমনটাই জানাচ্ছে জ্যোতিষশাস্ত্র।