Yumnam Khemchand Singh

মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী হলেন মেইতেই নেতা খেমচাঁদ, উপমুখ্যমন্ত্রী পদে দুই কুকি এবং নাগা বিধায়কের শপথ

মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপি পরিষদীয় দলের নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয় খেমচাঁদকে। মণিপুর বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার খেমচাঁদ একদা তৃণমূলের নেতা ছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:২৩
বাঁদিকে) মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় ভাল্লা এবং মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ (ডানদিকে)।

বাঁদিকে) মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় ভাল্লা এবং মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংহ (ডানদিকে)। ফাইল চিত্র।

এক বছর পরে রাষ্ট্রপতি শাসনে ইতি টেনে মণিপুরে শপথ নিল নতুন মন্ত্রিসভা। ক্ষমতাসীন বিজেপির নবনির্বাচিত পরিষদীয় নেতা ইয়ুমনান খেমচাঁদ সিংহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যটির ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন। মেইতেই জনগোষ্ঠীর নেতা খেমচাঁদের সঙ্গেই রাজ্যপাল অজয়কুমার ভাল্লার কাছে উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কুকি এবং নাগা জনজাতি গোষ্ঠীর দুই বিধায়ক— নেমচা কিপগেন এবং বিধায়ক এল দিখো। তাঁদের মধ্যে কুকি নেত্রী নেমচা বিজেপির। দিখো বিজেপির সহযোগী দল নাগা পিপলস ফ্রন্ট (এনপিএফ)-এর বিধায়ক।

Advertisement

মণিপুরে বিধানসভার ‘পুনরুজ্জীবন’ এবং সরকার গড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল সপ্তাহ কয়েক আগে। মঙ্গলবার দিল্লিতে বিজেপি পরিষদীয় দলের নতুন নেতা নির্বাচিত করা হয় খেমচাঁদকে। মণিপুর বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার খেমচাঁদ একদা তৃণমূলের নেতা ছিলেন। তাইকোন্ডোর পঞ্চম ডান ব্ল্যাক বেল্টের অধিকারী ৬২ বছরের খেমচাঁদ মুখ্যমন্ত্রী পদে তাঁর পূর্বসূরি এন বীরেন সিংহের তুলনায় ‘নরমপন্থী’ হিসেবে পরিচিত। তিনিই শাসক শিবিরের একমাত্র মেইতেই নেতা যিনি গত আড়াই বছরের গোষ্ঠীহিংসা পর্বে কুকি শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। একই পরিচিতি রয়েছে মেনচারও। বস্তুত, কুকি চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির হুমকি অগ্রাহ্য করেই ‘মেইতেই প্রাধান্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা’য় যোগ দিয়েছেন তিনি। নতুন সরকার গঠনের ফলে মণিপুরে শান্তি ফিরবে বলে দাবি করেছে বিজেপি।

গত লোকসভা ভোটে মণিপুরের দু’টি আসনেই জিতেছে কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি পুনর্প্রতিষ্ঠা করে খেমচাঁদের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। পশ্চিম ইম্ফল জেলার সিংজামেই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পর পর দু’টি নির্বাচনে (২০১৭ এবং ২০২২) জয়ী হয়েছেন খেমচাঁদ। তার আগে ২০১২ সালে ওই কেন্দ্রেই তৃণমূলের টিকিটে লড়াই করে মাত্র ১৫৭ ভোটে কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন তিনি। সে বারের বিধানসভা ভোটে মণিপুরে সাতটি বিধানসভা আসনে জিতে প্রধান বিরোধী দল হয়েছিল তৃণমূল। ঘটনাচক্রে, বীরেন সিংহের মতোই খেমচাঁদেরও রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ২০০২ সালে। মেইতেই জনগোষ্ঠীর দল ডেমোক্র্যাটিক রেভলিউশনারি পিপলস পার্টির পতাকা ধরে। পরবর্তী সময়ে সেই দল কংগ্রেসে মিশে গিয়েছিল। বীরেনের সঙ্গেই কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন খেঁমচাঁদ। এর পরে তৃণমূল ঘুরে ২০১৩ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।

মেইতেই এবং কুকিদের সংঘর্ষের জেরে মণিপুরে ২০২৩-এর মে মাস থেকে হিংসা শুরু হয়েছিল। তার প্রায় ২১ মাস পরে ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বীরেন ইস্তফা দিয়েছিলেন। এর পরেই ১৩ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্র মণিপুরে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করেছিল। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৩ মে জনজাতি ছাত্র সংগঠন ‘অল ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ মণিপুর’ (এটিএসইউএম)-এর কর্মসূচি ঘিরে মণিপুরে অশান্তির সূত্রপাত। মণিপুর হাই কোর্ট মেইতেইদের তফসিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছিল। এর পরেই জনজাতি সংগঠনগুলি তার বিরোধিতায় পথে নামে। আর সেই ঘটনা থেকেই সংঘাতের সূচনা হয় সেখানে। পরবর্তী সময়ে হাই কোর্ট নির্দেশ প্রত্যাহার করলেও গোষ্ঠীহিংসা চলছে টানা আড়াই বছরেরও বেশি। মণিপুরের আদি বাসিন্দা হিন্দু ধর্মাবলম্বী মেইতেই জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কুকি, জ়ো-সহ কয়েকটি তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের (যাদের অধিকাংশই খ্রিস্টান) সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত প্রায় দু’শো জনের মৃত্যু হয়েছে। ঘরছাড়ার সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার। তবে আর এক খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী নাগাদের বাসভূমি সেনাপতি এবং উখরুল জেলাই মেইতেই-কুকি গোষ্ঠীহিংসা ছড়ায়নি।

Advertisement
আরও পড়ুন