যোগী আদিত্যনাথ । ফাইল চিত্র।
গুজরাত, উত্তরাখণ্ডের পরে এ বার উত্তরপ্রদেশের পালা। আগামী বছরে ওই রাজ্যে ভোটের কথা মাথায় রেখেই বড়মাপের রদবদল হতে চলেছে যোগী আদিত্যনাথের মন্ত্রিসভায়। মূলত প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার বিষয়টি মাথায় রেখেই মন্ত্রিসভায় ওই পরিবর্তন করার কথা ভাবছে দল।
গত ন’বছরের যোগী শাসনে রাজ্যে প্রতিষ্ঠান-বিরোধী হাওয়া যে প্রবল তা ভাল করেই বুঝতে পারছেন গেরুয়া নেতৃত্ব। যোগীর শাসনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব ব্রাহ্মণ সমাজ। গত লোকসভা ভোটেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে যে দলের পিছিয়ে থাকা শ্রেণি ও দলিত ভোটব্যাঙ্কে ধস নেমেছে। সেই ভোট ফিরিয়ে আনতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে দল। দলের রাজ্য সভাপতি করা হয়েছে কুর্মি সমাজের নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীকে। জাতীয় অনগ্রসর শ্রেণির চেয়ারম্যান করা হয়েছে সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতিকে। লক্ষ্য হিন্দুত্বের পাশাপাশি নিষাদ সমাজের ওই মহিলাকে তুলে ধরে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া ও দলিত শ্রেণির পাশে থাকার বার্তা দেওয়া।
পরবর্তী ধাপে রাজ্যের মন্ত্রিসভায় যাতে পিছিয়ে থাকা সমাজের প্রতিনিধিত্ব আরও স্পষ্ট হয় সে কারণে প্রয়োজনীয় রদবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। বিজেপি সূত্রের মতে, রাজ্যের নিচুতলায় সরকারের প্রতি ক্ষোভ যে রয়েছে তা অজানা নয়। সেই ক্ষোভকে প্রশমিত করতে আরও বেশি করে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির নেতাকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই ভাবে ব্রাহ্মণ সমাজের ক্ষোভের কথা মাথায় রেখেও উচ্চবর্ণের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো হবে। জাতিগত ভারসাম্য ও এলাকাভিত্তিক সমীকরণকে প্রাধান্য দিতে অন্তত ডজনখানেক মন্ত্রীকে বসিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। যার পরিবর্তে অত্যন্ত ১৫ নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভেবেছে দল।
কিছু বিধায়ককে মন্ত্রী করার পাশাপাশি দলের শীর্ষ পদাধিকারীকে মন্ত্রিসভার আনার কথা ভাবা হয়েছে।