—প্রতীকী চিত্র।
গুয়াহাটিতে বিজেপির অসমিয়া প্রার্থী না দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ। দিসপুরে দলবদলু প্রার্থী দেওয়ায় বিদ্রোহ। নিউ গুয়াহাটিতে এত দিনের বিধায়ক সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্যকে টিকিট না দেওয়ার ‘বিশ্বাসঘাতকতা’! রাজধানী শহরের গুরুত্বপূর্ণ তিন আসনেই হাল সামলাতে নাজেহাল বিজেপি। সেই পরিস্থিতির সুযোগই নিতে চাইছে বিরোধীরা।
দিসপুরে তিন দশকের বিধায়ক থাকা, প্রাক্তন মন্ত্রী অতুল বরার বদলে সদ্য কংগ্রেস থেকে যোগ দেওয়া প্রদ্যোৎ বরদলৈকে বিজেপি সেখানে প্রার্থী করার পরেই ক্ষুব্ধ অতুল বলেছেন, হয় তিনি নির্দল হিসেবে লড়বেন বা সমর্থন জানাবেন কংগ্রেস প্রার্থী মীরা বরঠাকুরকে। মীরা নিজেও আগে বিজেপি নেত্রীই ছিলেন। কংগ্রেসে যোগ দিয়ে এখন তিনি মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী। অতুল তাঁকে সমর্থন জানাবেন বলার পরেই ফুলাম গামোসা হাতে তিনি হাজির হয়ে যান অতুলের বাড়িতে। তাঁকে গামোসা পরিয়ে, প্রণাম করে, জয়ী হওয়ার আশীর্বাদ চেয়ে নেন। পরিস্থিতি সামলাতে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা নিজেই হাজির হন অতুলের বাড়িতে। দেখা করার পরে তিনি বলেন, ‘‘অতুল বরাই টিকিট পেতেন কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়। বরার ক্ষোভ স্বাভাবিক। কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন। প্রচারেও অংশ নেবেন।” হিমন্ত এ-ও দাবি করেন, অপর বিদ্রোহী নেতা জয়ন্তকুমার দাসও দল ছাড়বেন না। কিন্তু সেই দাবি ভুল প্রমাণ করে, জয়ন্ত এ দিন বিজেপির সমস্ত পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
এ দিকে, সীমানা পুনর্বিন্যাসের জেরে পশ্চিম গুয়াহাটি আসন এখন মধ্য গুয়াহাটি কেন্দ্র হয়েছে। পশ্চিম গুয়াহাটি থেকে ৬ বারের বিধায়ক থাকা অসম গণ পরিষদ নেতা রমেন্দ্র নারায়ণ কলিতার হাত থেকে এ বার ওই আসন ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। গুয়াহাটিতে একটিও আসন দেওয়া হয়নি অগপকে। বিজেপি প্রার্থী করেছে বিহারি ব্যবসায়ী বিজয়কুমার গুপ্তকে। ভূমিপুত্রদের স্বার্থরক্ষাকে নির্বাচনের স্লোগান করা বিজেপি গুয়াহাটির গুরুত্বপূর্ণ অসমিয়াকে প্রার্থী না করে হিন্দিভাষীকে প্রার্থী করায় তীব্র ক্ষোভ রয়েছে এলাকায়। কলিতা ক্ষোভে অগপর সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিজয়কুমার আজ তাঁর বাড়ি এসে সাহায্য চান। কিন্তু কলিতা তাঁকে পাশে দাঁড় করিয়েই সাংবাদিকদের বলেন, “সমর্থকেরা আমায় নির্দল হিসেবে লড়তে বলছে। আমিও সেটাই ভাবছি। মধ্য গুয়াহাটি অগপ কমিটিও এ নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। বিজেপির বেশ কয়েক জন নেতা-নেত্রী মধ্য গুয়াহাটিতে প্রার্থী হতে চেয়েপোস্টার-ব্যানারে দেওয়াল, উড়ালপুল, ফুটব্রিজ ঢেকে ফেলেছিলেন। বিফল মনোরথ হয়ে তাঁরাও এখন দলেরবিরুদ্ধে ফুঁসছেন।
এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই বুকে বল পেয়েছেন অসম জাতীয় পরিষদের হয়ে লড়তে নামা তরুণী প্রার্থী কুনকি চৌধুরী। কংগ্রেস আসনটি অজাপকে ছাড়ার পরে সেখানে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের স্নাতক কুনকি হয়ে পড়েছেন বড় দলগুলির মধ্যে মধ্য গুয়াহাটির একমাত্র অসমিয়া প্রার্থী।
তৃণমূল দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা এখনও না দিলেও মধ্য গুয়াহাটিতে লড়তে তৈরি দলের মুখপাত্র অভিজিৎ মজুমদারের দাবি, এলাকায় প্রচুর বাঙালি ভোট। এত বছর ধরে কোনও বাঙালি সেখানে লড়েননি।