এই রেলিং ভেঙে খাদে পড়েছিল গাড়ি। (ইনসেটে) মৃত যুবরাজ মেহতা। ছবি: সংগৃহীত।
চোখের সামনে কাদাজল ভরা খাদে তলিয়ে গেলেন ২৭ বছরের পুত্র। দাঁড়িয়ে দেখলেন বাবা এবং পুলিশকর্মীরা। তাঁর করুণ আর্তি শুনেও কুয়াশা আর ঘন অন্ধকারে তাঁকে উদ্ধার করতে পারলেন না। তার পর এক সময় বুজে এল ইঞ্জিনিয়ার যুবকের গলা। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য খনন করা ৭০ ফুট গভীর গহ্বরে পড়ে মৃত্যু হল যুবরাজ মেহতার। নয়ডার ঘটনা।
যুবরাজ গুরুগ্রামের একটি ডেটা সায়েন্স সংস্থায় চাকরি করতেন। শুক্রবার গভীর রাতে অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল দিল্লি, নয়ডা-সহ আশপাশের এলাকা। দৃশ্যমানতা ছিল খুব কম। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এর কাছে বাঁক ঘুরতে গিয়ে গহ্বরে পড়ে যায় যুবরাজের এসইউভি গাড়ি। সেখানে রাস্তার ধারে রেলিংটি ভাঙা ছিল বলে অভিযোগ।
সাঁতার জানতেন না যুবরাজ। কোনওমতে গাড়ি থেকে বেরিয়ে তার উপরে উঠে দাঁড়িয়ে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন তিনি। ফোন করে বিপদের কথা জানান বাবাকে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন তাঁর বাবা রাজ মেহতা। নিজের মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে উদ্ধারকারীদের নিজের অবস্থান বোঝানোর চেষ্টা করেন। সাহায্য চেয়ে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর গলা শুনতে পেলেও ঘন কুয়াশার কারণে খাড়ির ভিতরে তাঁকে দেখতে পাননি উদ্ধারকারীরা। এক পথচারী শীতের রাতে খাদে নেমে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু যুবরাজের কাছে পৌঁছোতে না পেরে আবার উঠে আসেন।
যুবরাজের বন্ধু পঙ্কজ টোকাস জানিয়েছেন, পুলিশকর্মীরা একটি ক্রেন গহ্বরে নামিয়ে দিলেও নিজেরা নামেননি। শেষে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে ডাকা হয়। তখন রাস্তায় নিরুপায় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন যুবকের বাবা। ধীরে ধীরে মৃদু হতে থাকে যুবরাজের কণ্ঠস্বর। রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী সেখানে পৌঁছেও উদ্ধার করতে পারেনি। অভিযোগ, তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছিল না। গুরুগ্রামে কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। যত ক্ষণে তারা পৌঁছোয় ঘটনাস্থলে, তত ক্ষণে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে যুবরাজের কণ্ঠ। শনিবার ভোরে ওই গহ্বর থেকে উদ্ধার করা হয় যুবকের দেহ।