—প্রতীকী চিত্র।
জ্বালানির মজুত ও সরবরাহ নিয়ে কেন্দ্রের থেকে বার বার আশ্বাস এলেও, ভারতের কৌশলগত মজুত ভান্ডার নিয়ে আশঙ্কার কথা শোনাল উপদেষ্টা সিইইডব্লিউ। তাদের রিপোর্ট বলছে, বর্তমানে দেশে সেই ভাঁড়ারে রয়েছে মাত্র ৯-১০ দিনের অশোধিত তেল। সাধারণত আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য সব দেশই নিজেদের কৌশলগত মজুত ভান্ডারে তেল জমা রাখে। শোধনাগার ও পরিবহণ ব্যবস্থায় যে জ্বালানি রয়েছে, তাকে এই হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কট যুঝতে আমেরিকা, জাপানের মতো দেশ নিজেদের এই ভান্ডার থেকেই বাজারে তেল ছেড়েছিল। সিইইডব্লিউ-এর মতে, জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের ভাঁড়ারেও ২০০ দিনের তেল রয়েছে। সেখানে ভারতে মাত্র ১০ দিনের মজুত যথেষ্টই কম। এখানে আমদানি তেলের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে মাত্র ৬টি দেশ থেকে। এর মধ্যে রাশিয়া থাকলেও, নেই আমেরিকা। উপদেষ্টার কর্তা হেমন্ত মাল্য বলেন,‘‘পরিস্থিতি নেতিবাচক হলে দ্রুত জ্বালানি ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। ফলে পরিবহণ-সহ নানা ক্ষেত্রে সমস্যা বাড়বে। অন্য দিকে, গ্যাসের (এলপিজি, এলএনজি) কৌশলগত মজুত ভান্ডারই নেই। ফলে ব্যবস্থাটাই খুব ভঙ্গুর।’’ এই কারণে এলপিজি এবং এলএনজি মজুত নির্ধারণ করা সম্ভব নয় বলে রিপোর্টে দাবি।
উল্লেখ্য, ভারতের শোধনাগারগুলিতে অগস্ট পর্যন্ত তেল-গ্যাসের জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে বলে গত সপ্তাহেই জানিয়েছিল কেন্দ্রের এক সূত্র। দাবি, আপাতত দেশে ৭৫-৮০ দিনের মতো অশোধিত তেল রয়েছে। একই কথা জানিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার এক কর্তার বক্তব্য, জুলাই পর্যন্ত এলপিজি মজুত আছে। তথ্য বলছে, ইতিমধ্যেই শোধনাগারে জুলাইয়ের জ্বালানি ঢুকে গিয়েছে। অগস্টের বরাত দিয়েছে তেল সংস্থাগুলি। এই অবস্থা চললে দু’আড়াই মাস জ্বালানি নিয়ে বিরাট সমস্যা হবে না।