—প্রতীকী চিত্র।
রাজ্যসভায় সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল প্রশ্ন তুলেছিলেন কর্মক্ষেত্রে যৌন হেনস্থা প্রতিরোধের যে আইন সেই আইনের সুবিধা রাজনৈতিক দলগুলির নেত্রী, কর্মী ও সদস্যেরা পাবেন কি না। তবে মহিলা ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রক তার উত্তরে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলল না।
রাজনৈতিক দলের মহিলাদের ‘কর্মচারী’ হিসাবে কোনও উল্লেখ থাকে না দাবি করে সাংসদ লিখেছিলেন, ‘বাধ্যতামূলক’ অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি না থাকার জন্য অনেক মহিলা যৌন হেনস্থার ঝুঁকিতে থাকেন। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এই কথা কি সরকার জানে?’’
তাঁর আরও প্রশ্ন, যৌন হেনস্থা প্রতিরোধ আইনে নারীদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন কোনও আলোচনা করেছে কি না। সুরক্ষার জন্য সরকারের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তার উত্তরে মহিলা ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইনের উল্লেখ করে জানান, কাজের জায়গায় যৌন হেনস্থা নারীদের জীবন, স্বাধীনতা ও সমতার মৌলিক অধিকারকে লঙ্ঘন করে। নারীদের কাজে যোগ দেওয়ার অন্যতম প্রধান অন্তরায় এই ধরনের পরিবেশ। কাজের জগতে এই পরিস্থিতির কারণেই নারী উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে বিভিন্ন প্রতিকূলতা আসে। তিনি জানান, এই ধরনের হয়রানি মোকাবিলা করার জন্য যৌন হেনস্থা প্রতিরোধ আইন রয়েছে। যার আওতায় সরকারি বা বেসরকারি, সংগঠিত বা অসংগঠিত-সমস্ত কর্মক্ষেত্রের যে কোনও বয়সের নারীরাই আসেন।
‘কর্মক্ষেত্র’ বলতে চাকরি, ব্যবসা, বিনোদন, শিল্প, পরিষেবা বিভিন্ন ক্ষেত্রের কথা উল্লেখ করলেও মন্ত্রী ‘রাজনৈতিক দল’ শব্দ উল্লেখ করেননি। এই প্রসঙ্গে ২০২২ সালের কেরল হাই কোর্টের রায় উল্লেখ করেন মন্ত্রী। ওই রায় অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলির সদস্যেরা নিয়োগকর্তা বা কর্মচারী সম্পর্কে আবদ্ধ নন। তাই এই ক্ষেত্র ‘কর্মক্ষেত্র’ নয়। বম্বে হাই কোর্টকে উদ্ধৃত করেও জানানো হয়, কর্মক্ষেত্রের সংজ্ঞায় পরিধি ইচ্ছাকৃত ভাবেই বিস্তৃত রাখা হয়েছে। যাতে সকল স্তরের নারীরা সুবিধা পান।
দিল্লির মহিলা কমিশনের প্রাক্তন প্রধান তথা রাজ্যসভার সাংসদ স্বাতী ২০২৪ সালে হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের ব্যক্তিগত সহকারী বিভব কুমারের বিরুদ্ধে।