অনিল অম্বানী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আর্থিক অনিয়মের মামলায় অভিযুক্ত শিল্পপতি অনিল অম্বানীর সংস্থা ‘রিলায়্যান্স অনিল ধীরুভাই অম্বানী গোষ্ঠী’ (এডিএজি)-র বিরুদ্ধ তদন্তের শ্লথ গতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলিকে নিয়ে গঠিত শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ অনিল, এডিএজি এবং এডিএজি নিয়ন্ত্রিত সংস্থাগুলির বিরুদ্ধে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে চার সপ্তাহের মধ্যে নতুন স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা অন্যত্র সরানোর অভিযোগ উঠেছে রিলায়্যান্স এডিএজি গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থা এবং তার কর্ণধার অনিলের বিরুদ্ধে। এ জন্য তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। সেই মামলায় নতুন করে অনিল ও তাঁর গোষ্ঠীকে গত মাসে নোটিস পাঠিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ‘এটাই শেষ সুযোগ বলেও’ স্পষ্ট করে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল। পাশাপাশি, এই অভিযোগের তদন্ত কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে, ১০ দিনের মধ্যে সিবিআই, ইডি-কে সেই তথ্য জানাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রের দুই তদন্তকারী সংস্থার জবাব শুনে উষ্মা প্রকাশ করে বুধবার বেঞ্চ বলেছে, ‘‘তদন্তে কেন দেরি হচ্ছে! এমন বিলম্বের কোনও যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা নেই।’’
অনিল এবং রিলায়্যান্স এডিএজির বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে ৪০ হাজার কোটি টাকার ব্যাঙ্কিং ও কর্পোরেট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে জনস্বার্থ মামলাকারী প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব ইএএস শর্মার আইনজীবী শীর্ষ আদালতে বুধবার আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে তদন্তে বিলম্বের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালাতে পারেন। কিন্তু অনিলের সংস্থার আইনজীবী মুকুল রোহতগি এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন বেঞ্চকে। প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অনিল ও তাঁর বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টকে ‘প্রতারক’ বলে ঘোষণা করেছে। যা নিয়ে মামলাও চলছে বিভিন্ন আদালতে। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় সচিব শর্মা। গত ১৮ নভেম্বর প্রথম বার কেন্দ্র, দুই তদন্তকারী সংস্থা, অনিল এবং এডিএজি-কে নোটিস পাঠিয়েছিল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। আবেদনকারী পক্ষের অভিযোগ, ২০০৭-০৮ থেকে প্রতারণা হলেও, এফআইআর করা হয়েছে ২০২৫ সালে। ইডি, সিবিআই কী তদন্ত করছে, সেটাও জানাতে সুপ্রিম কোর্ট যাতে নির্দেশ দেয়, সেই আর্জিও জানানো হয়েছিল।