Commercial Gas

৭০% বাণিজ্যিক সিলিন্ডার জোগান বাড়াচ্ছে কেন্দ্র

স্বাভাবিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্যিক সিলিন্ডার জোগান দেওয়া হচ্ছিল। সূত্রের খবর, দেশে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। তার সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া ছাড়া অন্য দেশ থেকে আমদানি কিছুটা বেড়েছে। তার ফলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগানও বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:১০

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পরে এলপিজি আমদানিতে ধাক্কা লাগায় মোদী সরকার প্রথমে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে এলপিজি সিলিন্ডারে জোগান কাটছাঁট করেছিল। যাতে অন্তত গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের জোগানে সমস্যা না হয়। কিন্তু বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান কমে যাওয়ায় হোটেল-রেস্তরাঁর ব্যবসা ধাক্কা খেয়েছিল। সেই সঙ্গে অন্য শিল্পক্ষেত্রেও সমস্যার মুখে পড়েছিল। বিশেষত গাড়ি, বস্ত্র, রং, ইস্পাত, রাসায়নিক, প্লাস্টিকের মতো শ্রমনিবিড় ক্ষেত্র।

শিল্পমহলের সমস্যা দেখে আজ কেন্দ্রীয় সরকার বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল। যুদ্ধ শুরুর আগে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে যে পরিমাণ বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হত, এখন তার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এলপিজি জোগান দেওয়া হবে। এখন স্বাভাবিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাণিজ্যিক সিলিন্ডার জোগান দেওয়া হচ্ছিল। সূত্রের খবর, দেশে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। তার সঙ্গে পশ্চিম এশিয়া ছাড়া অন্য দেশ থেকে আমদানি কিছুটা বেড়েছে। তার ফলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগানও বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের সচিব নীরজ মিত্তল রাজ্যের মুখ্যসচিবদের চিঠি লিখে জানিয়েছেন, এই অতিরিক্ত ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার জোগানের ক্ষেত্রে ইস্পাত, অটোমোবাইল, বস্ত্র, রং, রাসায়নিক, প্লাস্টিকের মতো শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এ সব শিল্পে বিপুল সংখ্যায় শ্রমিক নিয়োগ হয়। এই শিল্পক্ষেত্রগুলি অন্য জরুরি ক্ষেত্রকেও কাঁচামাল সরবরাহ করে। রাজ্যগুলিকে ৭০ শতাংশ জোগানের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ বাণিজ্যিক সিলিন্ডার জোগান নির্ভর করবে এই রাজ্যগুলি পিএনজি বা পাইপ-বাহিত প্রাকৃতিক গ্যাস জোগানের পরিকাঠামোয় কতখানি উৎসাহ দিচ্ছে, তার উপরে।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পরেই মোদী সরকার প্রথমে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগানে কাটছাঁট করেছিল। কারণ দেশের ৬০ শতাংশ এলপিজি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আমদানির ৯০ শতাংশ এলপিজি আসে পশ্চিম এশিয়া থেকে, হরমুজ় প্রণালী হয়ে। যুদ্ধ শুরুর পরে তিন সপ্তাহে পর্যন্ত মাত্র চারটি এলপিজি বহনকারী ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় প্রণালী পেরোতে পেরেছে। এখনও পাঁচটি এলপিজি ভর্তি জাহাজ আটকে রয়েছে। আরও একটি খালি জাহাজ এলপিজি ভরে আসবে। এ ছাড়াও অশোধিত তেল, রাসায়নিক নিয়ে আরও ১৪টি জাহাজ হরমুজ় প্রণালী পার হতে না পেরে পারস্য উপসাগরে আটকে রয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, ভারতের মতো বন্ধু দেশকে জ্বালানি বহনকারী জাহাজ চলাচলে সাহায্য করা হবে। মোদী সরকার অবশ্য মনে করছে, এখন যে সব জাহাজ আটকে রয়েছে, সেগুলি একটি একটি করে হরমুজ় প্রণালী পার করে নিয়ে আসার চেষ্টা হবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে জাহাজচলাচল আগের মতো স্বাভাবিকহয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধের ফলে এলপিজি জোগান ধাক্কা খাওয়ায় মোদী সরকার প্রথমেই বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান স্বাভাবিক ২০ শতাংশ করে দিয়েছিল। তার পরে তা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়েছে। রাজ্যগুলির মাধ্যমে বাণিজ্যিক সিলিন্ডার জোগানো হচ্ছে। স্কুল, হাসপাতালের সঙ্গে রেস্তরাঁ, ধাবা, ভর্তুকিতে চলা ক্যান্টিন, হোটেল, কারখানার কর্মীদের ক্যান্টিন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও ডেয়ারি ক্ষেত্র, পরিযায়ী শ্রমিকদের জোগানে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মার বক্তব্য, দেশে এলপিজি উৎপাদন ৪০ শতাংশ বেড়েছে। গৃহস্থের জন্য সিলিন্ডারের জোগানে কোনও সমস্যা নেই। এখন গৃহস্থের জন্য প্রতি দিন ৫৪ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহ হচ্ছে। প্রতি দিন ৬০ থেকে ৬১ লক্ষ সিলিন্ডার বুকিং হচ্ছে। সূত্রের খবর, স্বাভাবিকের তুলনায় ফের গ্যাস বুকিং বাড়ছে।

আরও পড়ুন