—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
সরাসরি নজরদারি, আগাম ঝামেলার আঁচ করে পুলিশি তৎপরতা অথবা সন্দিগ্ধদের আচরণ বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন শনাক্তকরণের মতো কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
গত সোমবার যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে লোকসভায় তাদের এই সংক্রান্ত রিপোর্টটি পেশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, সাইবার অপরাধ ও আর্থিক দুর্নীতি রুখতে অপরাধদমন বাহিনীকে বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে এআই প্রযুক্তি। অপরাধের আগাম আঁচ পেতেও ব্যবহার হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। বিশেষ করে ভিড়ের চরিত্র বিশ্লেষণ করে, জনবহুল স্থানে ঝামেলা সৃষ্টি করতে পারে, এমন ব্যক্তিদের মুখমণ্ডল পুরনো সংগ্রহের সঙ্গে মিলিয়ে চিহ্নিত করে (‘ফেসিয়াল রিকগনিশন’ পদ্ধতিতে) তাদের আগেভাগেই আটক করা সম্ভব হচ্ছে। তেমনই শিশুদের উপরে হওয়া যৌন অপরাধ রুখতে প্রোঅ্যাকটিভ মনিটরিং টুল (পিএমটি) বা অতিসক্রিয় নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। নজর রাখা হচ্ছে ডার্ক ওয়েবের সক্রিয়তার দিকেও। সন্ত্রাস রোখার প্রশ্নেও, বিশেষত গাড়ির জাল নম্বরপ্লেট চিহ্নিতকরণে ও সীমান্ত-সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
সাইবার অপরাধ রুখতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (আইফোরসি) স্থাপন করেছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। এই কেন্দ্রটি এআই ও ‘মেশিন লার্নিং’ প্রযুক্তির ব্যবহারে তথ্য বিশ্লেষণ করছে এবং ফাঁদ পেতে থাকা ওয়েবসাইট ও জালিয়াতদের নেটওয়ার্ককে চিহ্নিত করে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি রেখে প্রয়োজনে তা রুখে দেওয়ার কাজও করে চলেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাইবার অপরাধের বিষয়ে যে অভিযোগ জমা পড়ে, তার একটি বড় অংশ হল মহিলা ও শিশুদের উপরে হওয়া অপরাধ। তা রুখতে ‘সুরক্ষিণী’ নামে একটি শাখা খোলা হয়েছে। এখানে অনলাইনে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ রয়েছে। অভিযোগ কী পর্যায়ে রয়েছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর হয়েছে কি না, এ সবই জানানোর পাশাপাশি বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র হিসেবেও কাজ করে ওই শাখা। রিপোর্টে সংসদীয় কমিটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে ভবিষ্যতে অপরাধ দমনে আরও বেশি করে এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুপারিশ করেছে।