Nutrition Patches

গায়ে লাগিয়ে নিলেই কি প্রোটিন-ভিটামিনের ঘাটতি মিটবে? কতটা কার্যকরী ‘নিউট্রিশন প্যাচ’?

সহজ উপায়ে যদি পুষ্টির ঘাটতি মিটে যায়, তা হলে ক্ষতি কী! চামড়ায় প্যাচ লাগিয়ে নিলেই চলবে। তা হলে আর আলাদা করে রোজের ডায়েটে ভিটামিন, প্রোটিন বা ফাইবারের চিন্তা করতে হবে না। এ সব সুবিধার কথা ভেবেই ‘নিউট্রিশন প্যাচ’ নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়েছে, আদৌ কি তা কার্যকরী?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৭
Do Nutrition Patches Actually Work, what are the limitations

‘নিউট্রিশন প্যাচ’ কী, জানুন ভালমন্দ। ফাইল চিত্র।

খাওয়ার ওষুধ হিসেবে নয়। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমেও নয়। এ বার শরীরের যে কোনও জায়গায় লাগিয়ে নিলেই হবে। তাতেই ত্বকের মাধ্যমে দ্রুত পুষ্টি উপাদান ঢুকে যাবে শরীরে। রোজের খাওয়াদাওয়ায় আর প্রোটিন, ভিটামিন, ফাইবার বা খনিজ লবণের ঘাটতি মেটানোর কথা ভাবতে হবে না। ভিটামিন ট্যাবলেট বা সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার প্রয়োজনও পড়বে না। এমন ভাবনা থেকেই ‘নিউট্রিশন প্যাচ’ নিয়ে মাতামাতি চলছে। অনেকেই কিনছেন। গায়ে লাগিয়ে পুষ্টির ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করছেন। এমন প্যাচ এখন অনলাইনের জনপ্রিয় সাইটগুলিতেও সহজলভ্য। কিন্তু আদৌ কি এটি কার্যকরী?

Advertisement

নিউট্রিশন প্যাচ কী?

ছোট আঠালো স্টিকারের মতো, যা ত্বকের উপর লাগিয়ে রাখতে হয়। এই প্যাচ থেকে রোমকূপের মাধ্যমে ভিটামিন ও নানা খনিজ লবণ সটান ঢুকে যায় রক্তে— ধারণাটা এমনই। সাম্প্রতিক সময়ে নেটমাধ্যমেও এমন প্যাচ নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। অনেককেই তা গায়ে লাগিয়ে বসে থাকতেও দেখা দিয়েছে। দাবি এমনই, যে এই প্যাচ লাগালে আর আলাদা করে ভিটামিন ট্যাবলেট বা ক্যালশিয়াম সাপ্লিমেন্টের মতো সহায়ক ওষুধগুলি খেতে হবে না। একটি প্যাচ থেকেই শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় পুষ্টি উপাদান ত্বক ভেদ করে ঢুকে যাবে শরীরে। ওষুধ খেতে যাঁদের অনীহা অথবা ডায়েট ঠিকমতো করতে পারেন না, তাঁদের বেশ পছন্দের জিনিস হয়ে উঠেছে এই ‘নিউট্রিশন প্যাচ’। তবে এটি কি আদৌ বিজ্ঞানসম্মত?

ভারতের ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরি অফ মেডিসিন’-এর তথ্য বলছে, ভিটামিন সি-এর মতো জলে দ্রবণীয় ভিটামিনগুলি ত্বক ভেদ করে ঢুকতে পারে না। অথচ এই ভিটামিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। তবে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে কিছুটা হলেও ত্বক ভেদ করে ঢুকতে পারে, তবে সে পরিমাণ খুবই কম। এতই কম পরিমাণে ভিটামিন রোমকূপ দিয়ে ত্বকে ঢুকবে যা কখনওই পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে পারবে না। আবার অন্যান্য যে সব খনিজ লবণ আছে, সেগুলিও ত্বকে ঢুকতে গেলে বাধা পাবে। কারণ ত্বকের উপরের স্তর সুরক্ষার বর্ম হিসেবে কাজ করে। বাইরের কোনও উপাদানকে শরীরে ঢুকতে বাধা দেবে।

নিউট্রিশন প্যাচের আরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন ট্যাবলেট বা কোনও সাপ্লিমেন্ট খেলে, সেগুলি রক্তের মাধ্যমে সরাসরি বাহিত হয়ে কোষে পৌঁছতে পারে না অনেক সময়েই। বহিরাগত উপাদানকে কোষে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় কিছু বাহক বা ‘রিসেপ্টর’ যেগুলি শরীরেই থাকে। কিন্তু ত্বকের বেলায় তা হয় না। তাই যেটুকু ভিটামিন রক্তে মিশছে প্যাচের মাধ্যমে তার সবটাই যে কোষে গিয়ে পৌঁছোচ্ছে, তা নয়। নিউট্রিশন প্যাচ নিয়ে গবেষণাও তেমন আশাব্যঞ্জক হয়নি বলেই দাবি। অর্থাৎ, সাময়িক ভাবে প্যাচটি লাগানো যেতে পারে, তবে পুষ্টির ঘাটতি যাঁর বেশি তিনি প্যাচ লাগিয়ে রাখলে কোনও উপকারই পাবেন না। এতে লাভ তো হবেই না, বরং হিতে বিপরীত হবে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের প্যাচ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন না গবেষকেরা।

Advertisement
আরও পড়ুন