ডেঙ্গির টিকা আসতে চলেছে এ দেশে। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক।
ডেঙ্গি নিরাময়ের উপায় কি তবে হাতে এসে গেল? প্রতিষেধকের এক ডোজ়েই নির্মূল হবে ডেঙ্গি ভাইরাস? ভারত শুধু নয়, ডেঙ্গির মশার দাপাদাপি গোটা বিশ্ব জুড়েই। তাকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার উপায় এত দিনেও হাতে আসেনি। শুধু চেষ্টাই চলেছে। ডেঙ্গির মশা নিধনে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং হয়ে চলেছে। মশার শরীরে ব্যাক্টেরিয়া বা ভাইরাস ঢুকিয়ে তাকে পঙ্গু করার চেষ্টাও কম হচ্ছে না। তবু কিছুতেই মশা তো দূর, তার শরীরে বাসা বাঁধা ভাইরাসকে জব্দ করাও সম্ভব হচ্ছে না। তাই মশা মারতে কামান না দেগে, বরং মানব শরীরে ডেঙ্গির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ শক্তি জাগিয়ে তোলার চেষ্টাই করছেন গবেষকেরা। আর সে উপায় হল টিকা বা প্রতিষেধক। ডেঙ্গির টিকা নিয়ে নানা দেশেই গবেষণা চলছে দীর্ঘ সময় ধরে। তা নিয়ে খবরও হয়েছে। তবে এ বার তেমনই এক টিকাকে অনুমোদন দিতে চলেছে এ দেশের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ও ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা (সিডিএসসিও)। তাই ডেঙ্গির টিকা এই মুহূর্তে আলোচনায়।
টিকাটি তৈরি করেছে জাপানের এক বায়োফার্মা কোম্পানি, তাকেদা। এর নাম ‘কিউডেঙ্গা’ বা ‘টিকে-০০৩’। ৪১টি দেশে টিকাটির কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। এ দেশেও ৪ বছর থেকে ৬০ বছর বয়সিদের উপর টিকাটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আপাতত ৪৮০ জনের উপরে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে। এর ফলাফল কী হচ্ছে, তার উপর নজর রেখেছে ‘সাবজেক্ট এক্সপার্ট কমিটি’ (এসইও)। চিকিৎসক, গবেষক ও চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়ের সঙ্গে জড়িত আধিকারিকদের নিয়ে তৈরি এই কমিটি যাচাই করে দেখছে যে, জাপানি সংস্থার তৈরি ডেঙ্গি প্রতিরোধক টিকাটি আদৌ ভারতীয়দের জন্য নিরাপদ হবে কি না। প্রাথমিক ভাবে তাদের রিপোর্টে ইতিবাচক তথ্য পাওয়া গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, সব ঠিক থাকলে খুব তাড়াতাড়ি তাদের সম্মতি পৌঁছে যাবে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থার কাছে। আর টিকাটিকে এ দেশের জন্য অনুমোদন দেওয়া হবে।
শুধু বিদেশি কোম্পানির তৈরি টিকার উপরেই যে ভরসা করা হচ্ছে, তা নয়। ডেঙ্গির টিকা তৈরি হচ্ছে এ দেশেও। আর সে কাজে প্যানাসিয়া বায়োটেকের সঙ্গে জোট বেঁধেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। যে টিকা তৈরি হয়েছে, তার নাম ‘ডেঙ্গিঅল’। এই টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। প্রায় হাজার দশেক মানুষকে টিকা দিয়ে দেখা হচ্ছে, তাঁরা আদৌ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হন কি না।
জাপানি হোক বা দেশীয় টিকা, দুই-ই ডেঙ্গি ভাইরাসের চার প্রকার উপরূপকে (ডিএনভি-১ থেকে ডিএনভি-৪) ঠেকাতে পারবে বলে দাবি করা হয়েছে। ডেঙ্গির উপরূপ যা-ই হোক না কেন, তারা চরিত্র বদলে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে বলেই দাবি গবেষকদের। কারণ, ডেঙ্গি জ্বরের যা উপসর্গ ছিল আগে, এখন তাতে বদল এসেছে। শুধু জ্বর বা গায়ে র্যাশ বেরোনোই নয়, এনসেফ্যালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহও দেখা দিচ্ছে। ডেঙ্গির জীবাণু বহনকারী মশা কামড়ানোর তিন থেকে ১৪ দিনের মধ্যে জ্বর শুরু হয়। হেমারেজিক হলে রোগীর শরীরের বিভিন্ন ধমনী ও শিরা ফেটে গিয়ে রক্ত ও প্লাজ়মা বেরিয়ে যেতে শুরু করে। বাইরে থেকে রক্ত দিলেও অনবরত রক্তক্ষরণে রোগীর অবস্থা ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে রক্তে প্লেটলেট কমতে শুরু করে। টিকা নেওয়া থাকলে, রোগের এত বাড়াবাড়ি হবে না বলেই আশা রাখছেন গবেষকেরা।