Mosquito repellent plants

ঘরের শোভা বাড়বে, মশাও জব্দ হবে, কোন পাঁচ গাছকে ভয় পায় ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়ার মশারা

সবুজ গাছগাছালির শখ? তবে এমন গাছ দিয়ে ঘর সাজান যা অন্দরসজ্জার জন্য সেরা, আবার মশারও যম। এই সব গাছ ঘরে থাকলে ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়াবাহী মশার উপদ্রব কম হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ১৫:২৭
Get these plants to keep mosquitos at bay

কোন কোন গাছ ঘরে রাখলে মশা আসবে না। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক।

মশারা এখন আর বর্ষার জন্য অপেক্ষা করে না। বারো মাসই তাদের উৎপাত। ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ার মশারা তো আবার চরিত্র বদলে ফেলে সব ঋতুতেই সমান সক্রিয়। রোগও ছডাচ্ছে পাল্লা দিয়ে। মশা তাড়াতে কামান দেগেও তেমন লাভ হচ্ছে না। মশা তাড়ানোর ধূপও ক্ষতিকর। তাই মশাদের জব্দ করতে ‘কেমিক্যাল’ নয়, বরং ভরসা হোক ‘ক্লোরোফিল’। অর্থাৎ, সবুজ গাছগাছালিই দিব্যি লড়ে যাবে মশার সঙ্গে। তেমন গাছ ঘরে রাখলে মশার প্রকোপ কমবে অনেকটাই। ঘর সাজাতে সবুজ গাছগাছালি পছন্দ হলে, এমন গাছ বেছে বেছে কিনতে পারেন, যা অন্দরসজ্জায় শোভা বৃদ্ধি করবে এবং মশাও তাড়াবে একই সঙ্গে।

Advertisement

ঘরের কোনায় থাক মশা তাড়ানোর প্রাকৃতিক ঢাল

লেমন গ্রাস

লেমন গ্রাস।

লেমন গ্রাস। ছবি: সংগৃহীত।

মশা তাড়াতে সিদ্ধহস্ত। আপাতনিরীহ দেখতে গাছটি খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতে কাজে লাগলেও এর আরও এক বৈশিষ্ট্য আছে। এতে আছে 'সিট্রোনেলা' নামে এক রকম প্রাকৃতিক তেল, যা মশা তাড়ানোর অধিকাংশ ক্রিম বা ধূপ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এর তীব্র গন্ধ মশাদের বিভ্রান্ত করে দেয়। ফলে কাছাকাছি এমন গাছ থাকলে, মশা আর মানুষের গন্ধ চিনতে পারে না। এমন গাছ জানলার পাশে রোদে রাখলেই বেশি ভাল হবে।

ল্যাভেন্ডার

ল্যাভেন্ডার।

ল্যাভেন্ডার। ছবি: সংগৃহীত।

রূপচর্চায় এর নাম বেশ পরিচিতই। এসেনশিয়াল অয়েল হিসেবে এর বেশ নামডাক আছে। তবে মশা তাড়াতেও যে গাছটি সিদ্ধহস্ত, তা হয়তো জানা নেই অনেকের। এর সুগন্ধ মানুষের পছন্দ হলেও, মশাদের জন্য বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে। ল্যাভেন্ডারে যে প্রাকৃতিক তেল জাতীয় উপাদান থাকে, তার নাম ‘লিনালুল’। এটিই তীব্র গন্ধ তৈরি করে। আর সে জন্যই মশারা এই গাছের ধারেকাছে ঘেঁষে না।

রোজ়মেরি

রোজ়মেরি।

রোজ়মেরি। ছবি: সংগৃহীত।

রোজ়মেরি বা সালভিয়া রোজ়মেরিনাস গাছের নির্যাস থেকে সুগন্ধি তৈরি হয়। এই সুগন্ধি মশাদের অপছন্দ। রোজ়মেরি গাছ যেখানে থাকে, সেখানে মশারা খুব একটা যায় না। রোজ়মেরির পাতা বা ডালের অংশ নিয়ে পোড়ালে যে তীব্র গন্ধ বার হয়, তাতেই মশা পালায়। রাসায়নিক মেশানো ধূপ বা কয়েলের চেয়ে রোজ়মেরি অনেক বেশি নিরাপদ।

ক্যাটনিপ

ক্যাটনিপ।

ক্যাটনিপ। ছবি: সংগৃহীত।

দেখতে সুন্দর এবং প্রাকৃতিক ভাবেই মশা ও অন্যান্য পতঙ্গের উৎপাদ কমাতে পারে। ক্যাটনিপের নির্যাসে নেপেটাল্যাকটোন নামে এক প্রকার যৌগ থাকে, যা মশার জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর। দেখা গিয়েছে, বাজারে যে সব মশা তাড়ানোর স্প্রে পাওয়া যায়, তার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরী ক্যাটনিপের নির্যাস। এই গাছ ঘরে রাখলে মশার উৎপাত অনেকটাই কমতে পারে।

ইউক্যালিপটাস

ইউক্যালিপটাস।

ইউক্যালিপটাস। ছবি: সংগৃহীত।

এ গাছের অনেক গুণ। রূপচর্চা থেকে ওষুধ তৈরি, সবেতেই এর ভূমিকা রয়েছে। আবার কীটপতঙ্গের উৎপাত কমাতেও গাছটির জুড়ি মেলা ভার। ঘরে টবে রাখা যায়, এমন ইউক্যালিপটাস গাছ এখন কিনতে পাওয়া যায়। সেটি ঘরে এনে রাখলে এর কড়া গন্ধে মশা, মাছি ও অন্যান্য পোকার উপদ্রব কমবে। এর পাতায় থাকে 'ইউক্যালিপটল' নামক উপাদান, যা কীটপতঙ্গ দূরে রাখতে পারে।

ফ্লস ফ্লাওয়ার

ফ্লস ফ্লাওয়ার।

ফ্লস ফ্লাওয়ার। ছবি: সংগৃহীত।

এই গাছে হালকা নীল বা বেগুনি রঙের ফুল ফোটে যা দেখতে খুব সুন্দর। অন্দরসজ্জাতেও গাছটি বেশ মানানসই। এই গাছ থেকে ‘কওমারিন’ নামে এক ধরনের গ্যাস নির্গত হয়, যা মশা বা অন্যান্য পোকার উৎপাত কমাতে পারে। মশা তাড়ানোর স্প্রে-তে এই উপাদানটির সঙ্গেই অন্যান্য রাসায়নিক মেশানো হয়। গাছটি ঘরে রাখলে ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার মশার প্রকোপ কমতে পারে। তবে গাছটির নির্যাস যেন ত্বকে না লাগে, তা হলে অ্যালার্জি হতে পারে।

Advertisement
আরও পড়ুন