রাধিকার হাতে ২১ কোটির ঘড়ি। ছবি: সংগৃহীত।
২০২৬-এর আইপিএল সফর ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। নিজেদের দল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের প্রথম ম্যাচে সপরিবার মাঠে হাজির ছিলেন মুকেশ অম্বানীর পুত্রবধূ রাধিকা মার্চেন্ট। তিনি যখন সেজেগুজে বেরোন, তখন তাঁকে নিয়ে আলোচনার শেষ থাকে না। যখন সাধারণ পোশাক পরে বেরোন, তখনও তাঁকে দেখে আশ মেটে না! রূপও দিব্যকান্তি। কথায় কথায় মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে দেন চারপাশে। তাই ফ্যাশন জগতের তিনি চোখের মণি।
সাদামাঠা সাজেই ওয়াংখেড়ের মাঠে এসেছিলেন রাধিকা। তবে তাঁর ঘড়িটি ছিল নজরকাড়া। অম্বানী পরিবারের ছোট বউয়ের হাতে দেখা গেল বেগুনি রঙের রিচার্ড মিলের ঘড়ি। এই ঘড়িটি সংস্থার লিমিটেড এডিশনের মডেল, বিশ্ব জুড়ে মাত্র হাতেগোনা কয়েকটি তৈরি করা হয়েছে বলে জানা যায় এবং এর দামও আকাশছোঁয়া।
রাধিকার নজরকাড়া অনুষঙ্গটি ছিল রিচার্ড মিলের অনবদ্য আরএম ৭৫-০১ ফ্লাইং টুরবিলন স্যাফায়ার। ঘড়িটির নকশায় ছিল গথিক স্থাপত্যের ছোঁয়া। যা এই ঘড়িটিকে সত্যিই ব্যতিক্রমী করে তুলেছে তা হল এর সম্পূর্ণ স্কেলেটনাইজ়ড নকশা। এক্স-রে প্লেটে যেমন হাড়ের ছবি স্পষ্ট ফুটে ওঠে, এই ঘড়িতেও তার ভিতরের যন্ত্রাংশের ঝলক স্পষ্ট। মডেলটি মোট তিনটি ভ্যারিয়েশনে পাওয়া যায়। তার মধ্যে হালকা গোলাপি রঙের স্যাফায়ার সংস্করণটি, যা রাধিকার হাতে দেখা গিয়েছে, তা বিশ্ব জুড়ে রয়েছে মাত্র ১০টি।
ঘড়িটি তৈরি করা কোনও সহজ কাজ নয়। সম্পূর্ণ নিরেট স্যাফায়ার ব্লক থেকে খোদাই করা এর কেসটি তৈরি করতে ১,০০০ ঘণ্টারও বেশি মেশিনিংয়ের প্রয়োজন হয়। প্রায় ৪০ দিন ধরে একটানা ঘষামাজা করে এর স্বচ্ছতা বাড়ানো হয়। এর ত্রিখণ্ডিত কেসটি স্থায়িত্বের জন্য নকশা করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে সূক্ষ্ম নান্দনিকতাও বজায় রাখা হয়েছে। ঘড়িটি জলরোধী এবং টাইটানিয়াম স্ক্রু দ্বারা সজ্জিত। ভিতরে, একটি টাইটানিয়াম বেসপ্লেট মুভমেন্টটিকে ধরে রাখে এবং ৬টার অবস্থানে থাকা ফ্লাইং টুরবিলনটি প্রতি ৬০ সেকেন্ডে একটি পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করে। এই ঘড়িটিতে ৬৫ ঘণ্টা পর্যন্ত পাওয়ার রিজার্ভও রয়েছে। ঘড়িটির মূল্য প্রায় ২.২৬ মিলিয়ান ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২১ কোটি টাকা)।
রাধিকার স্বামী অনন্ত অম্বানীর ঘড়ির প্রতি টানের কথা কারও অজানা নয়। বহু মহামূল্যবান ঘড়ি রয়েছে তাঁর সম্ভারে। রাধিকাও কিন্তু কোনও অংশেই পিছিয়ে নেই।