Kerala Shigellosis Cases

ছোঁয়াচে শিগেলোসিস ছড়াচ্ছে কেরলের কোঝিকোড়ে, অসুস্থ শতাধিক, মৃত ৩ বছরের শিশু, কী এই রোগ?

তীব্র ডায়েরিয়া। রক্ত অমাশয়। ঘন ঘন বমি হতেই থাকবে। কেরলে এক ভয়াবহ ছোঁয়াচে রোগ ছড়িয়েছে। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি শতাধিক। কী ভাবে ছড়াচ্ছে এই রোগ?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১৮
Shigellosis Outbreak Reported in Kerala, what is this disease

শিগেলোসিস কী, কী ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে কেরলে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক।

মার্চ মাসের শুরুর দিকে তীব্র ডায়েরিয়া ও জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল বছর তিনেকের এক শিশুকন্যাকে। কী রোগ হয়েছে ধরা পড়ার আগেই মৃত্যু হয় তার। ঘটনাটি কেরলের কোঝিকোড় জেলার। পরে একই রকম উপসর্গ নিয়ে আরও অনেকে ভর্তি হন হাসপাতালে। অসুস্থদের মধ্যে শিশুরাও ছিল। আক্রান্তদের মল ও মূত্রের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা যায়, রোগটি নিছক ডায়েরিয়া বা ভাইরাল জ্বর নয়, সেটি শিগেলোসিস। ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত এমন এক ছোঁয়াচে রোগ, যা ছড়িয়ে পড়তে পারে খুব তাড়াতাড়ি। কেরলের স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে খবর, শিগেলোসিস শুধু কোঝিকোড়ে নয়, কেরলের আরও কয়েকটি জেলায় ছড়িয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শতাধিক মানুষ।

Advertisement

শিগেলোসিস কী?

শিগেলা নামক এক ব্যাক্টেরিয়া থেকে রোগটি ছড়ায়। আর পাঁচটা ব্যাক্টেরিয়ার থেকে শিগেলার চরিত্র আলাদা। এটি দূষিত জল ও অস্বাস্থ্যকর খাবার থেকেই মূলত ছড়ায়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকলেও রোগটি হতে পারে। বাসি খাবার, রাস্তার কাটা ফল, শরবত, দূষিত জল এবং পচা খাবার থেকে সংক্রমণ খুব দ্রুত ঘটতে পারে। দীর্ঘ ক্ষণ খোলা রেখে দেওয়া খাবার, যাতে মাছি বা পোকা বসেছে, তেমন খাবার খেলেও শিগেলার সংক্রমণ হতে পারে।

শিগেলা ব্যাক্টেরিয়া একবার শরীরে ঢুকলে সবচেয়ে আগে পাকস্থলী ও অন্ত্রকে আক্রমণ করে। হজমপ্রক্রিয়াকে তছনছ করে দেয়। এর কারণে অন্ত্রে এমন বিষক্রিয়া ঘটে যে, মলের সঙ্গে রক্ত ও মিউকাস বার হতে শুরু করে। রোগীর ঘন ঘন বমি হয়, রক্ত অমাশয় দেখা দেয়। শরীরে ধীরে ধীরে জলশূন্য হতে থাকে, মাথা ঘোরা, প্রচণ্ড দুর্বলতা এমনকি কিছু ক্ষেত্রে শ্বাসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে, মরসুম বদলের সময়ে সাধারণ ডায়েরিয়া বেশি দেখা গেলেও শিগেলোসিস কমই হয়। আর যখন রোগটি হয়, তখন বড় এলাকা জুড়ে বহু মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তের মল, মূত্র ও সংস্পর্শ থেকে রোগটি ছড়াতে পারে। রোগীর সঙ্গে এক থালায় খেলে বা আক্রান্তের ব্যবহার কার জিনিসপত্রের সংস্পর্শে এলে, শিগেলার সংক্রমণ হতে পারে।

কাদের ঝুঁকি বেশি?

পাঁচ বছরের নীচে শিশু ও ষাটোর্ধ্বদের রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ জাঁকিয়ে বসতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।

শিগেলোসিস হলে রোগীকে নুন-চিনির জল বা ওআরএস খাওয়াতে হবে। পর্যাপ্ত জল ও তরল খাবার খাওয়াই জরুরি। সাধারণত এই সংক্রমণ ৫ থেকে ৭ দিন থাকে। তবে রক্ত অমাশয় শুরু হলে তা সারতে সময় নেয়। কেরলে শিগেলোসিসে আক্রান্ত অনেকের অবস্থাই সঙ্কটাপন্ন। রোগটি তীব্র আকার নিলে তখন প্রাণসংশয়ও হতে পারে। তখন হাসপাতালে ভর্তি করানো ছাড়া গতি থাকে না।

Advertisement
আরও পড়ুন