পোষ্যের ব্যাবেসিয়া মারাত্মক আকার নিতে পারে, সতর্ক হবেন কী ভাবে? ছবি: ফ্রিপিক।
মরসুম বদলের সময়ে কিছু সাধারণ অসুখবিসুখ দেখা যায় পোষ্যদের মধ্যে। এর মধ্যে অন্যতম পরিচিত রোগ— টিক জ্বর। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গিয়েছে, পোষ্য কুকুরদের মধ্যে আরও এক প্রকার সংক্রমণ হচ্ছে। সেটিও টিক বা পরজীবী বাহিত। এমন এক রোগ যাতে, মানুষের মতোই রক্তাল্পতা দেখা দিতে পারে কুকুরেরও। এ রোগ ছোঁয়াচে। পরজীবী বাসা বেঁধে রয়েছে, এমন কোনও অসুস্থ পোষ্যকে কোনও পোকা কামড়ানোর পরে সেই পোকা যদি আর একটি সুস্থ পোষ্যকে কামড়ায়, তা হলেও রোগ ছড়াতে পারে।
কুকুরদের মধ্যে ব্যাবেসিয়া বা ব্যাবেসিয়োসিস প্রাণঘাতী হতে পারে। ব্যাবেসিয়া নামে এককোষী পরজীবী কুকুরের শরীরে বাসা বাঁধলে তা খুব দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে পড়ে। আর এর লক্ষ্য হয় রক্তকণিকাগুলিকে ভেঙে দেওয়া। ব্যাবেসিয়ার সংক্রমণ হলে রক্তকণিকাগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। ফলে রক্তাল্পতার লক্ষণ দেখা দেয় কুকুরের শরীরে।
কী ভাবে বোঝা যাবে?
প্রথমেই পোষ্যটি খাওয়াদাওয়া কমিয়ে দেবে।
দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যাবে, জ্বর ১০৪ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠতে পারে এবং অনেক দিন ধরে তা থাকবে।
প্রচণ্ড দুর্বল হয়ে পড়বে, হাঁটাচলা করতে পারবে না। সারা ক্ষণ ঝিমিয়ে থাকবে।
খাওয়ার পরেই বমি হবে, নাক দিয়ে রক্তও বার হতে পারে।
মাড়ি ও চোখের ভিতর ফ্যাকাশে দেখাবে।
লোহিত রক্তকণিকা ভেঙে যাওয়ায় প্রস্রাবের রঙ গাঢ় কমলা, লাল বা কালচে হয়ে যাবে।
ব্যাবেসিয়া হলে কী করণীয়?
রোগের লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। সাধারণত আরটি-পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে রক্তে পরজীবীর উপস্থিতি ধরা পড়ে। যদি রক্তাল্পতা খুব বেশি হয়, তা হলে রক্ত দেওয়ারও প্রয়োজন হতে পারে। ব্যাবেসিয়ায় পোষ্যের শরীরে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে খুব দ্রুত স্যালাইন দেওয়াও জরুরি।