মমতা বলেন, “আপনারা চান বিজেপির হাতে বাংলাটাকে তুলে দিতে? তা হলে আমায় কথা দিন, শান্ত থাকবেন। কাকে কান নিয়ে গিয়েছে বলে দৌড়োবেন না। কারণ, ওটা বিজেপির কাক।”
মালদহের ঘটনায় রাজ্যের বদনাম হয়েছে! এমনই বললেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আপনাদের ন্যায্য ক্ষোভ রয়েছে। কিন্তু আইন হাতে তুলে নেবেন না। লড়াইয়ের রাস্তাটা বন্ধ করে দেবেন না। রাজ্যের বদনাম হয়েছে। নতুন মুখ্যসচিব সামলাতে পারেননি। আপনারা চান আমি অপমানিত হই? আর কত অপমানিত হব?”
নির্বাচন কমিশন আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থ বলে অভিযোগ করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে পারেনি কমিশন।” তাঁর হাতে যে এখন প্রশাসনিক ক্ষমতা নেই, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যদি আমার উপর বিশ্বাস থাকে, তা হলে দয়া করে উত্তেজনায় পা দেবেন না। রক্ষা করুন বাংলাকে। মুর্শিদাবাদকে রক্ষা করুন। নিজেদের অধিকার রক্ষা করুন। আমি তো বলেছি আপনাদের, কাউকে আমি বার করতে দেব না। কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে না।”
মালদহের ঘটনায় নাম না-করে মিম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং সাসপেন্ড হওয়া তৃণমূল বিধায়ক তথা নবগঠিত আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “হায়দরাবাদ থেকে কেউ উড়ে এল আর বিজেপি কটা গদ্দারকে টাকা দিয়ে আপনাদের উত্তেজিত করল, আপনাদের দিয়ে রাস্তা অবরোধ করল, বিচারকদের ঘেরাও করল। ফলাফলটা কী হল?” প্রসঙ্গত, ওয়েইসি মূলত হায়দরাবাদের রাজনীতিক। তাঁর এবং হুমায়ুনের দল এই ভোটে জোট বেঁধে লড়াই করছে। ‘হায়দরাবাদ’ এবং ‘গদ্দার’ শব্দ ব্যবহার করে মুখ্যমন্ত্রী ওয়েইসি এবং হুমায়ুনকেই নিশানা করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
মালদহের ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে সমর্থন করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ঠিক বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।” তার পরেই আদালতের নির্দেশের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, “আপনারা কি জানেন না, যাঁরা আন্দোলন করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সিবিআই করেছে, এনআইএ করেছে।”
জনগণের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, তাঁরা যেন শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রতিবাদ করেন। মালদহের ঘটনা ‘বিজেপির গেমপ্ল্যান’ বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “বিজেপি চায় এখানকার নির্বাচন বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে। এটা ওদের গেমপ্ল্যান।”
মালদহের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “দয়া করে প্ররোচনায় পা দেবেন না।”
মালদহের ঘটনা নিয়ে প্রশাসনের তরফে তাঁকে কেউ খবর দেয়নি বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির জনসভায় তিনি আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন যে, প্রশাসন এখন নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।