Import Duty on Gold-Silver

দাম বাড়বে সোনা-রুপোর! ৯% আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি করল কেন্দ্র! সোনা না কিনতে দেশবাসীকে মোদীর পরামর্শের পরই পদক্ষেপ

সোনা এবং রুপোর উপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস চাপানো হয়েছে। ফলে আড়াই গুণ আমদানি শুল্ক বেড়ে গিয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০৯:০৬
সোনা-রুপোর উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি কেন্দ্রের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সোনা-রুপোর উপর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি কেন্দ্রের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আগামীএক বছর সোনা-রুপো না কেনার জন্য দেশবাসীর কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই আর্জির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অর্থাৎ বুধবার থেকে সোনা-রুপোর উপর আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় ৯ শতাংশ বৃদ্ধি করল কেন্দ্র। আগে এই দুই ধাতুর আমদানিতে ৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল। এ বার তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হল। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে সোনা-রুপোর দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বর্ণব্যবসায়ীরা।

Advertisement

সোনা এবং রুপোর উপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এবং ৫ শতাংশ কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস চাপানো হয়েছে। ফলে আড়াই গুণ আমদানি শুল্ক বেড়ে গিয়েছে। কেন্দ্র আশাবাদী এই সিদ্ধান্তের জেরে সোনা আমদানিতে রাশ টানা যাবে। বাণিজ্যে ঘাটতি কমবে এবং ডলার প্রতি টাকার পতনও আটকানো যাবে বলে মনে করছে তারা।

প্রসঙ্গত, ভারত বিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনা ব্যবহারকারী দেশ। দেশে সোনার চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ হলুদ ধাতু আমদানি করতে হয়। তা ছাড়া দেশে সোনায় বিনিয়োগ করার চাহিদাও বেড়েছে বহু গুণ। সমস্ত দিক বিবেচনা করেই কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবারই প্রধানমন্ত্রী মোদী দেশবাসীর কাছে আবেদন করেছিলেন যে, তাঁরা যেন এক বছর সোনা কেনা বন্ধ রাখেন। বাঁচাতে বলেন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারও (ফরেক্স)। কিন্তু কেন এই পদক্ষেপের কথা বলেছিলেন মোদী?

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত মহল বলছে, বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে যে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় কেন্দ্রীয় সরকারের, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাতেই রাশ টানতে চাওয়া হচ্ছে। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে (১ মে পর্যন্ত) ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার ৭৭৯ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার কমে গিয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। তার ফলে দেশে এখন বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার হয়েছে ৬৯,০৬৯ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকা।

বিশ্বে সোনা কেনার ক্ষেত্রে ভারত অগ্রগণ্য। প্রতি বছর এ দেশের মানুষ ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা কেনেন। কিন্তু এ দেশে সোনা মেলে মাত্র এক থেকে দু’টন। অর্থাৎ, প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ সোনা তাদের বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। সোনা আমদানি করতে গিয়ে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়।

তা ছাড়া, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের আবহে তেলের দাম বেড়েছে। বেড়েছে আমদানির খরচও। আমদানি-রফতানি ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সোনা আমদানির খরচও বেড়েছে। তার ফলে চাপ পড়ছে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারে। আর সে কারণে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আপাতত এক বছর সোনা কিনতে বারণ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন