প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ফাইল চিত্র।
নতুন বছরে কোনও বিশেষ রাষ্ট্র বা শক্তির উপর সর্বাত্মক নির্ভরতার কৌশল থেকে বেরিয়ে এসে নিজের স্বার্থ অনুযায়ী কূটনৈতিক সম্পর্কে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের বক্তব্য, ক্রমশ বহুমেরুতে ভেঙে যাওয়া এই বিশ্বে আমেরিকার মতো দেশের সঙ্গে একশো শতাংশ জোট বেঁধে থাকার ফায়দা ক্রমশ কমছে। বরং সম্পর্কের বৈচিত্র বাড়িয়ে, নতুন নতুন বন্ধু খোঁজা বুদ্ধিমানের কাজ।
বিদেশ মন্ত্রকের এক সূত্রের কথায়, বাণিজ্য-শক্তি-নিরাপত্তা-শ্রমিকদের যাতায়াত-ভূকৌশলগত বার্তা সবেতেই স্পষ্ট যে, নয়াদিল্লি স্বল্পমেয়াদি সংঘাতকে হজম করে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থের কথা ভাবছে। তার মতে, নিয়মকানুন মানা বহুপাক্ষিকতার অবসান, উন্নত রাষ্ট্রগুলির অর্থনৈতিক রক্ষণশীলতা বাড়া, দেনাপাওনার ভূকৌশলগত রাজনীতির উত্থান যেমন ঝুঁকি তৈরি করছে, তেমনই নতুন সুযোগও এনে দিচ্ছে। আর সেই পরিপ্রেক্ষিতে বহুকেন্দ্রিক বিশ্বের জন্য দরজা খুলছে ভারত।
আমেরিকা এখনও ভারতের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রাষ্ট্র। কিন্তু পঁচিশের ট্রাম্প-নীতির জেরে স্পষ্টতই ভারতের তরফ থেকে ওয়াশিংটনের মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকার চেষ্টাশুরু হয়েছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক ব্লকের বিবিধ রাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করে দিয়েছে। চেষ্টা চলছে রফতানির গন্তব্যবাড়ানোর। পরিবর্ত ‘সাপ্লাই চেন’ খোঁজা হচ্ছে। এক দিকে যেমন উন্নত রাষ্ট্রগুলিতে সংরক্ষণবাদের বাড়বাড়ন্ত সম্পর্কে সতর্ক থাকছে সাউথ ব্লক, অন্য দিকে নতুন উঠে আসা মধ্য আয়ের বাজারে কড়া নাড়াও শুরু করেছে। ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আশা অবশ্য এখনও রয়েছে। তবে বাণিজ্য কৌশলের ক্ষেত্রে একমুখী ফলের সন্ধানে না গিয়ে অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গেও বাণিজ্য কূটনীতি বাড়তে দেখা যাবে ছাব্বিশে।
আমেরিকার পাশাপাশি চিনও এই বছর ভারতীয় বিদেশনীতিকে চরম ব্যস্ত রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। বেজিং সম্পর্কে সতর্ক হয়ে এগোনো এই বছরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ভারতের কাছে। গত বছর তিয়াংজিং-এ এসসিও সম্মেলনে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আলোচনায় সম্পর্কের বরফ অনেকটাই গলেছে। তবে বারবার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে গত বছরের শেষে। নতুন বছরেও তা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক তৈরি করে সাউথ ব্লক ইঙ্গিত দিয়েছে, জটিল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও অর্থনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নিতে যেতে তারা পিছপা নয়। বাণিজ্য এবং বাণিজ্য পথকে রাজনীতির থেকে আলাদা করার প্রবণতা তালিবানের সঙ্গেসম্পর্ক তৈরিতে স্পষ্ট। যদিও বাংলাদেশের পরিস্থিতি বছরের শেষে গভীর চিন্তায় রেথেছে নয়াদিল্লিকে। ৪ হাজার কিলোমিটারের সীমান্তে বাংলাদেশের অস্থিরতা এবং ভারত-বিরোধী হিংসার প্রভাব রয়েছে। অস্থির প্রতিবেশী বলয়ে বাংলাদেশ ছিল সেই বন্ধু রাষ্ট্র, যাকে চোখ বুজে ভরসা করতে পারত মোদী সরকার। আপাতত আগামী ফেব্রুয়ারিতে সে দেশের নির্বাচনের দিকে নজর রাখা এবং বিএনপি-র সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় তৈরি করাই অগ্রাধিকার হতে চলেছে ভারতেরঢাকা নীতির।