(বাঁ দিক থেকে) কেতন অগ্রবাল, সিয়া গোয়ল এবং চেতন চৌধরী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
পুণের ব্যবসায়ীপুত্র কেতন অগ্রবালের খুনের তদন্তে নতুন মোড়। এ বার পুলিশ চিহ্নিত করল সিয়া গোয়লের প্রেমিক চেতন চৌধরীর এক সহপাঠীকে। অভিযোগ, খুনের পর তিনি সিয়া এবং চেতন উভয়ের সঙ্গেই দেখা করেছিলেন। তবে কি ষড়যন্ত্রের কথা আগে থেকে জানতেন তিনি? সেই সম্ভাবনা রয়েছে বলেই তদন্তকারীরা মনে করছেন। ওই যুবককে আটক করে আপাতত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁকে পুলিশ এই মামলায় সাক্ষী হিসাবে ব্যবহার করবে, না তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আটক যুবকের নাম প্রকাশ করা হয়নি এখনও। তবে সূত্রের দাবি, চেতনের সঙ্গে পড়তেন তিনি। সহপাঠীর প্রেমিকাকেও চিনতেন। তাঁর হবু স্বামীকে যে খুনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সে কথা ওই যুবক জানতে পেরেছিলেন বলে দাবি। তবে তিনি কতটা জানতেন, কবে থেকে জানতেন, তাঁর সঙ্গে সিয়া এবং চেতনের কী কথাবার্তা হয়েছিল, খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আপাতত তিনি রয়েছেন পুণে গ্রামীণ পুলিশের হেফাজতে। তাঁর বয়ান এই মামলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে দাবি পুলিশি সূত্রে।
গত ১৮ জুন পুণের লোহাগড় দুর্গ থেকে খাদে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় কেতনের। তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রাথমিক ভাবে একে দুর্ঘটনা বলে মনে করেছিল পুলিশ। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই খুনের তত্ত্ব প্রকাশ্যে আসে। অভিযোগ, সিয়া এবং তাঁর প্রেমিক মিলে পরিকল্পনা করে কেতনকে খুন করেছেন। দু’জনেই আপাতত তদন্তকারীদের হেফাজতে। ইতিমধ্যে সিয়াকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। তাঁকে পুণের মার্কেট ইয়ার্ড এলাকার বাড়িতেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করেন সিয়া। তাঁর এবং চেতনের পলিগ্রাফ পরীক্ষার আবেদনও জানানো হয়েছে।
অভিযোগ, সিয়ার সঙ্গে কেতনের বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল। বিয়ের কেনাকাটা করার নাম করে হবু স্বামীর কাছ থেকে অনেক টাকাও নিয়েছিলেন সিয়া। তা তুলে দেন প্রেমিকের হাতে। দু’জনে মিলেই খুনের ছক কষেন বলে অভিযোগ। শুধু তা-ই নয় আরও অভিযোগ, এর আগেও একাধিক বার কেতনকে খুনের চেষ্টা করেছেন ওই দু’জন। বার বার পরিকল্পনা ভেস্তে গিয়েছে। অবশেষে তা সফল হয় ১৮ তারিখ, লোহাগড় দুর্গে। সিয়ার বাবা-মা জানিয়েছেন, তাঁদের কন্যা যদি সত্যি দোষ করে থাকেন, তাঁর ফাঁসি হওয়া উচিত।