—প্রতীকী চিত্র।
মাসের পর মাস জ্বালানি সঙ্কট। তার জেরে অর্থনীতিতে ধাক্কা। হরমুজ় প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলবাহী ভারতীয় জাহাজগুলি নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ। ফলে আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি ভারতের কানে সুধা বর্ষণের মতো। কিন্তু খোঁচা হিসাবে থেকে গেল চুক্তিপত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় পাকিস্তানের স্বাক্ষর। যে চুক্তি গোটা বিশ্বের অর্থনীতি এবং ভূকৌশলের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা নিতে পারে, তাতে পাকাপাকি ভাবে ইসলামাবাদের থেকে যাওয়াটা কূটনৈতিক ভাবমূর্তির প্রশ্নে সে দেশকে বাড়তি গুরুত্ব প্রদান করল, এমনটাই অভিমত বিশেষজ্ঞদের। প্রসঙ্গক্রমে এটাও বলা হচ্ছে, মুম্বই হামলার পরে মনমোহন সিংহের সরকার যে ভাবে পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক স্তরে কোণঠাসা করেছিল, পহেলগাম হামলার পর মোদী সরকার সেই চেষ্টা করলেও, কার্যক্ষেত্রে হল উল্টো। ফলে এই শান্তি দীর্ঘস্থায়ী হলে ইসলামাবাদ এমন সব আন্তর্জাতিক ছাড় পেতে শুরু করবে, যা ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আজ আসরে নেমেছে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস।
কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের অশোধিত তেল আমদানির ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা কমবে। তেল এবং গ্যাসের দাম কমতে পারে। টাকার উপরে চাপ কমবে। মুদ্রাস্ফীতিতেও রাশ টানা হয়তো সম্ভব হবে। পাশাপাশি এমনটাও মনে করা হচ্ছে, এই যুদ্ধ পশ্চিম এশিয়ার উপরে জ্বালানি ক্ষেত্রে ভারতের অতিনির্ভরতাকেই প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। ৫০ শতাংশেরও বেশি অশোধিত তেল ভারত আমদানি করে এই অঞ্চল থেকে। কংগ্রেস এই সমস্ত বিষয়কে স্বাগত জানিয়ে সতর্ক করার ঢংয়ে বলছে, পাকিস্তান নতুন করে আন্তর্জাতিক এবং আঞ্চলিক প্রভাব অর্জন করছে, যার ভারতের জন্য অমঙ্গলের।
কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ আজ বলেছেন, “আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে ইসলামাবাদের চুক্তিপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে। এই চুক্তিপত্র স্পষ্ট করে দিচ্ছে পাকিস্তানের আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির দিকটি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিদেশনীতির ক্ষেত্রে এটি একটি বড় ধাক্কা। পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় আরও গভীর ভাবে ঢুকে পড়ল পাকিস্তান। ভারতের উপর তার প্রভাব আশঙ্কাজনক।’’
প্রধানমন্ত্রী মোদীর আর এক বন্ধু বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর প্রসঙ্গ তুলে জয়রাম বলেন, “নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে হয়ে গিয়েছেন। এমনকি ট্রাম্পও প্রকাশ্যে এই নিয়ে তাঁর হতাশা ও ক্রোধের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। একমাত্র নরেন্দ্র মোদী এই অঞ্চলে নেতানিয়াহুর পাশে। লেবানন, গাজ়ায় ইজ়রায়েলের পদক্ষেপগুলিকে সমর্থন করছেন।’’ ভারত কি চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য ইজ়রায়েলকে বলবে? সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রী বলেন, ‘‘ইজ়রায়েল এবং ইরান, দুই দেশের সঙ্গেই আমাদের ভাল সম্পর্ক। কিন্তু আমরা সংঘাতের অংশীদার নই। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিই বিষয়টা দেখুক। যদি আমাদের কিছু করার থাকে করব।’’