কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। ফাইল চিত্র।
মহিলা সংরক্ষণে আপত্তি নেই। কিন্তু সেই মহিলা সংরক্ষণ করতে গিয়ে নতুন জনগণনার ফলের জন্য অপেক্ষা না করে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস করে মর্জিমাফিক লোকসভা ও বিধানসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়া নিয়ে সংসদে আপত্তি তুলবে কংগ্রেস। এ নিয়ে বাকি বিরোধী দলের সঙ্গে মিলে ঐক্যবদ্ধ রণকৌশল ঠিক করতে ১৫ এপ্রিল দিল্লিতে বিরোধী দলগুলির শীর্ষ নেতানেত্রীদের বৈঠক ডাকছে তারা।মোদী সরকার ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন থেকে তিন ভাগের এক ভাগ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত করার ব্যবস্থা করতে ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছে। সংসদের রণকৌশল ঠিক করতে শুক্রবার দিল্লিতেকংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মহিলা সংরক্ষণ ও আসন পুনর্বিন্যাস— এই দু’টি বিষয়কে আলাদা ভাবে দেখা হবে।
ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পরে কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, ‘‘কীসের ভিত্তিতে লোকসভা ও সমস্ত বিধানসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হল? মোদী সরকার লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৮১৬ করতে চাইছে। সবরাজ্যের লোকসভার আসন ও বিধানসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানো হবে বলে সরকার ঘরোয়া ভাবে জানিয়েছে। কোথা থেকে এই ৫০ শতাংশ এল? কেন ২৫ শতাংশ বা ৩৩ শতাংশ নয়? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কার সঙ্গে কথা বলে লোকসভার আসন ৫০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন?” তাঁর বক্তব্য, মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে কারও আপত্তি নেই। তাকে সমর্থন করা বা না করারও প্রশ্ন নেই। কারণ, ২০২৩-এর সেপ্টেম্বরেই মহিলা সংরক্ষণ আইন সংসদে পাশ হয়ে গিয়েছে। তার জন্য সংবিধানে ৩৩৪এ অনুচ্ছেদ যোগ হয়েছে। আসল বিষয় হল, আসন পুনর্বিন্যাস। কারণ, মোদী সরকারের সূত্র মেনে আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণ ভারত, পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির সঙ্গে উত্তর-পূর্ব, উত্তর-পশ্চিম ভারতের ছোট রাজ্যগুলি বঞ্চিত হবে। উত্তর ভারতের বড় রাজ্যগুলির সঙ্গে লোকসভায় তাদের আসনের ফারাকআরও বাড়বে।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের শুরুতে দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে বলেছেন, শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ফায়দা তুলতে তার ঠিক আগে সংসদের অধিবেশন ডেকে মোদী সরকার মহিলা সংরক্ষণ নিয়ে প্রচারের ভাষ্য তৈরি করতে চাইছে। বিরোধীরা চিঠি লিখে ২৯ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গের ভোট মিটে যাওয়ার পরে এ নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু মোদী সরকার ২০২৯-এ মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানোর জন্য নির্বাচনী মরসুমের মধ্যেই সংসদের অধিবেশন ডেকেছে। খড়্গে বলেন, ‘‘এটা নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধির লঙ্ঘন। কিন্তু আমরা নির্বাচন কমিশনের থেকে আশাও করি না যে তারা এ দিকে নজর দেবে। কারণ, কমিশন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ দফতর হিসেবে কাজ করছে।’’
কংগ্রেস সূত্রের বক্তব্য, মহিলা সংরক্ষণ আইনে মোদী সরকারই বলে ছিল, ২০২৬-এর পরে জনগণনা ও আসন পুনর্বিন্যাস করেতারপরে এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ হবে।কীসের এমন বাধ্যবাধকতা যে জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করেই মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার জন্য ভোটের মধ্যে সরকার সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে চাইছে? এ নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলা হবে। জয়রাম বলেন, ‘‘নরেন্দ্র মোদী দেশের আর্থিক সঙ্কট, বিদেশ নীতির ব্যর্থতা থেকে নজর ঘুরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে মহিলা সংরক্ষণের কথা বলে ফায়দা তুলতে চাইছেন।’’