Mallikarjun Kharge

গলওয়ান, সিঁদুরের পরেও চিনা সংস্থাকে বরাত কেন, প্রশ্ন

লাদাখে সীমান্ত সংঘর্ষের পরে ২০২০ সালে মোদী সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাত পেতে চিনা সংস্থার দরপত্রের উপরে কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছিল। ফলে এ দেশে চিনের সংস্থার সরকারি বরাত পাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ০৫:৪১
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। — ফাইল চিত্র।

অপারেশন সিঁদুর-এর সময় সামরিক দিক দিয়ে চিন সব রকম ভাবে পাকিস্তানকে সাহায্য করেছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ উপ-সেনাপ্রধান লেফটেনান্ট জেনারেল রাহুল সিংহ। তার আট মাসের মধ্যে নরেন্দ্র মোদী সরকার কেন চিনা সংস্থার উপর থেকে ভারতে সরকারি বরাত পাওয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গেল। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে আজ অভিযোগ তুলেছেন, মোদী সরকারের বিদেশনীতি পেন্ডুলামের মতো দোদুল্যমান। চিনা সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে গলওয়ানে ভারতীয় জওয়ানেরা প্রাণ দিয়েছিলেন। সেই চিনের সংস্থার জন্য মোদী সরকার এখন লাল কার্পেট বিছিয়ে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখে বলেন, তিনি দেশকে নত হতে দেবেন না। কাজের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো করেন। কংগ্রেসের দাবি, সংসদের বাজেট অধিবেশনে চিন নিয়ে উলট-পুরাণের এই নীতির ব্যাখ্যা দিতে হবে মোদীকে।

লাদাখে সীমান্ত সংঘর্ষের পরে ২০২০ সালে মোদী সরকার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বরাত পেতে চিনা সংস্থার দরপত্রের উপরে কার্যত নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছিল। ফলে এ দেশে চিনের সংস্থার সরকারি বরাত পাওয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু চিনের সংস্থা ও তাদের অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে বহু পরিকাঠামো প্রকল্পে দেরি হতে থাকে। তাই চাপের মুখে মোদী সরকার চিনা সংস্থার জন্য দরজা খোলা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই খবর প্রকাশ্যে এসেছে। মোদী সরকার তা অস্বীকার করেনি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এ’টি অন্য মন্ত্রকের বিষয়। তাঁর কিছু জানা নেই।

কংগ্রেসের প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেন, উপ-সেনাপ্রধান অপারেশন সিঁদুর-এর পরে চিনকে ভারতের অন্যতম প্রতিপক্ষ বলেছিলেন। এখন মোদী সরকার চিনের সংস্থার উপরে কড়াকড়ি তুলে নিতে চাইছে। এর আগে চিনের সংস্থাকে এ দেশের ইলেকট্রনিক্স ক্ষেত্রে লগ্নির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। চিনের কর্মীদের জন্য ভিসার শর্ত শিথিল হয়েছে। নীতি আয়োগ চিনের সঙ্গে বাণিজ্য ও লগ্নির ক্ষেত্রে যে সব কড়াকড়ি শিথিলের সুপারিশ করেছিল, সেই অনুযায়ীই সব চলছে। সবটাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজস্ব দুর্বলতার ফসল। চিনের সেনা ভারতের এলাকায় ঢুকে পড়ার পরেও তিনি ২০২০-তে চিনকে ‘ক্লিনচিট’ দিয়েছিলেন। অথচ চিন লাদাখে সেনা মোতায়েন করে রেখেছে। অরুণাচল প্রদেশ নিয়ে উস্কানি দিচ্ছে। ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ তৈরি করছে। আট মাস আগে ভারতের সেনা অভিযানের সময় পাকিস্তানকে মদতও দিয়েছে।

আরও পড়ুন