শার্ট খুলে প্রতিবাদের মুহূর্ত। — ফাইল চিত্র।
গত শুক্রবার ভারত মণ্ডপমে শার্ট খুলে প্রতিবাদ করার ঘটনায় আরও দুই যুব কংগ্রেসের কর্মীকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে যুব কংগ্রেসের সভাপতি উদয় ভানু চিব-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। প্রতিবাদের ভাষা নিয়ে কেবল ইন্ডিয়া মঞ্চের শরিকই নয়, কংগ্রেসের মধ্যে মতান্তর তৈরি হয়েছে বলে আজ বিজেপি দাবি করলেও, যাবতীয় সংশয় ঝেড়ে ফেলে আজ ধৃত যুব কংগ্রেসের কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছে দল।
নরেন্দ্র মোদী আপস করার কারণেই ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে বলে গোড়া থেকেই প্রতিবাদে সরব রাহুল গান্ধীর দল। গত শুক্রবার ভারত মণ্ডপমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে হওয়া আন্তর্জাতিক এআই সম্মেলনে জোর করে ঢুকে, শার্ট খুলে ওই চুক্তির প্রতিবাদ জানান যুব কংগ্রেসের সদস্যরা। যদিও আর্ন্তজাতিক সম্মেলনে এ ধরনের বিরোধের বিপক্ষেই সুর চড়ায় তৃণমূল, এসপি, ডিএমকের মতো ইন্ডিয়া জোটের দলগুলি। পরবর্তী ধাপে কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সদস্য মার্গারেট আলভাও এ ভাবে প্রতিবাদ জানানো নিয়ে আপত্তি জানান। তাঁর মতে, এতে দেশের সম্মানহানি হয়েছে। আজ বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেত্রীর মন্তব্যকে হাতিয়ার করে আক্রমণে নামেন বিজেপি নেতৃত্ব। দলের মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী বলেন, ‘‘এত দিন তো শরিক দলগুলি আপত্তি জানিয়েছিল। এ বার কংগ্রেসের ভিতরেই ওই ঘটনার বিরুদ্ধে লোক সরব হতেশুরু করেছে।’’
উল্টো দিকে, কংগ্রেস নেতৃত্ব যাবতীয় দ্বিধা ঝেড়ে আন্দোলনকারী যুবকদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রাহুল সমাজমাধ্যম এক্সে জানান, ‘‘আপনি বাণিজ্য চুক্তিতে দেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন, এটি লজ্জার বিষয়। ...গোটা দেশ জানে আদানি (গোষ্ঠী)-র উপরে আমেরিকায় যে মামলা চলছে, তা আপনার রাতের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কেন না, ওই মামলা আসলে বিজেপি ও আপনার আর্থিক পরিকাঠামোর উপর মামলা।...তাই আমরা পিছু হটব না।’’ কংগ্রেস সূত্রের মতে গোড়ায় ওই ভাবে আন্দোলন নিয়ে দলের মধ্যে সংশয় থাকলেও, যে ভাবে পুলিশ এই আন্দোলনকে ‘আরও বড় মাপের হামলার ছক’ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে, তা মেনে নেওয়া যায় না। কারণ কংগ্রেস আগামী দিনেও প্রশ্ন করা জারি রাখবে। বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে এত সহজে সরকারকে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তাই ধৃতদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। পরে মার্গারেট আলভাও জানিয়েছেন, তিনি যা বলেছেন, তা তাঁর নিজস্ব মত। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।