এক দিকের লেন দিয়েই চলছে গাড়ি। মোল্লাবেড়ে। নিজস্ব চিত্র
দুই থেকে চার লেনের হয়েছে দিল্লি রোড। সম্প্রসারণের এই কাজ প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে শেষ হয়েছে। রাস্তা চওড়া হওয়ায় গাড়ির গতি বেড়েছে। কিন্তু এত দিনেও ডানকুনিতে দু’টি জায়গায় সেতুর কাজ হয়নি। এখানে চারের পরিবর্তে গাড়ি চলছে দু’টি লেন দিয়ে। অভিযোগ, এর ফলে আকছার দুর্ঘটনা ঘটছে।
সারা দিনে এই সড়ক দিয়ে কয়েক হাজার গাড়ি চলে। গাড়ি চলাচল মসৃণ করতে এবং দুর্ঘটনা রোধে দ্রুত ওই সেতু তৈরির দাবি তুলছেন এলাকাবাসী। সমস্যার কথা মানছেন পূর্ত দফতরের আধিকারিকেরাও। তাঁদের দাবি, সেতু তৈরির কাজ দ্রুত করার চেষ্টা চলছে।
মোল্লাবেড় এলাকায় প্রায় আধ কিলোমিটার রাস্তার সম্প্রসারণ হয়নি সেতু না হওয়ায়। এই অংশে রাস্তার দু’পাশে বিভিন্ন কারখানা, হোটেল ইত্য়াদি রয়েছে। জনবসতিও কম নয়। এলাকাবাসীর বিশ্লেষণ, অনেক ক্ষেত্রেই বেশি গতিতে চলতে চলতে সংকীর্ণ এই অংশেও একই গতিতে ঢুকে পড়ে গাড়ি। বিশেষত উল্টো দিকের লেন দিয়ে চলতে থাকা গাড়ি এই অংশে ঢুকলে বিপত্তির আশঙ্কা বেশি।
মোল্লাবেড়ের বাসিন্দা প্রসেনজিৎ দাস বলেন, ‘‘সপ্তাহে একটা-দু’টো দুর্ঘটনা লেগেই থাকে। দুর্ঘটনার ফলে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সেতু তৈরির জন্য বহু বার লিখিত ভাবে আবেদন করা হয়েছে। এখনও তো হল না!’’
কিছু দিন আগে মোল্লাবেড় এলাকায় একটি চায়ের দোকানে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঢুকে পড়ে। এই দুর্ঘটনায় তিন জন মারা যান। ডানকুনি মাদার ডেয়ারির কাছেও সেতু না হওয়ায় একই সমস্যা রয়েছে। দিন কয়েক আগে ওই জায়গয় একটি অটো উল্টে স্থানীয় এক মহিলার হাত ভাঙে। তার পরে ট্রাকের ধাক্কায় এক পথচারীর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের বক্তব্য, কারখানায় শিফ্টের শুরু এবং ছুটির সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। দুর্ঘটনা ঘটলে কয়েক দিন পুলিশের নজরদারি বাড়ে। তার পরে পরিস্থিতি আগের মতোই হয়ে যায়।
এই দুই জায়গায় পুরনো সেতুর হাল কয়েক বছর আগে পরীক্ষা করেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞেরা। সেতুগুলি ভারী যান চলাচলের উপযুক্ত নয় বলে তাঁরা রিপোর্ট দেন। জীর্ণ সেতু দু’টিতেই যান চলাচল এখন বন্ধ।
ডানকুনির পুরপ্রধান হাসিনা শবনম বলেন, ‘‘ওই দু’টি সেতু নতুন করে তৈরির জন্য আমাদের তরফে সংশ্লিষ্ট দফতরে জানানো হয়েছে। দু’টি জায়গাই দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে।’’ শ্রীরামপুরের পূর্ত দফতরের সহকারী বাস্তুকার সুব্রত দাস মানছেন, যে অংশে রাস্তা একমুখী হওয়ার কথা, সেখান দিয়ে দু’দিকের গাড়ি চলায় যানজট হয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। তিনি বলেন, ‘‘ওই দু’টি সেতুর জন্য বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) পাঠানো হয়েছে।’’