বিস্ফোরণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত চিকিৎসক উমর উন নবি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আরও এক আত্মঘাতী বোমারু নিয়োগের পরিকল্পনা করেছিলেন দিল্লি বিস্ফোরণের মূল অভিযুক্ত তথা চিকিৎসক উমর উন নবি। রবিবার এমনই দাবি করেছে তদন্তকারীদের এক সূত্র। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসেন উমর। কেন তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেছিলেন, ধৃতদের জেরা করে সেই তথ্যও পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্তকারী ওই সূত্রের দাবি, জম্মু-কাশ্মীর থেকেই আরও এক যুবককে আত্মঘাতী বোমারু হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সব কিছু ঠিকও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু উমর ওই যুবককে এই কাজে শামিল করার বিষয়ে শেষ মুহূর্তে মত বদলে ফেলেন। কারণ তাঁর দাবি ছিল, আপেল চাষে বাবা-মাকে সাহায্য করতে ওই যুবকই একমাত্র ভরসা ছিলেন। আর তাই তাঁকে আত্মঘাতী বোমারু হিসাবে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে আসতে হয়েছে।
কী ভাবে উমরেরা যুবক-যুবতীদের জঙ্গিদলে নিয়োগ করতেন, শোপিয়ানের ইয়াসির আহমেদ দারকে গ্রেফতারের পর, সেই তথ্যও উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। ইয়াসিরকেই আত্মঘাতী বোমারু হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন উমর। কিন্তু গত বছরের অগস্টে একটি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন উমর। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ২০২৩ সাল থেকে উমরের সঙ্গে যোগাযোগ ইয়াসিরের। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, উমর একজন দক্ষ নিয়োগকর্তা ছিলেন। কী ভাবে মগজধোলাই করে দলে টানতে হয় তা তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে করতেন। ইয়াসিরের মগজধোলাই করেছিলেন উমর। ইয়াসির কট্টরপন্থী, এটা জানতেন উমর। আর সেই সুয়োগকে কাজে লাগিয়ে ইয়াসিরকে আত্মঘাতী বোমারু হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু ইয়াসিরদের আপেলের বাগান রয়েছে। আপেল চাষের দেখাশোনা করতেন তিনি। সেই চাষের যাতে ক্ষতি না হয়, তার জন্য ইয়াসিরকে আত্মঘাতী বোমারু বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েও পিছিয়ে এসেছিলেন উমর।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লা মেট্রোর সামনে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই হামলার মূল অভিযুক্ত ছিলেন চিকিৎসক উমর। বিস্ফোরণে উমর-সহ ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছেন অনেকে।