Matrimonial Dispute

স্বেচ্ছায় পাকাপাকি ভাবে শ্বশুরবাড়ি ছাড়লে, পরে সেই ঠিকানায় ফিরতে দিতেই হবে, এমন বাধ্যবাধকতা নেই! পর্যবেক্ষণ কোর্টের

আদালতের পর্যবেক্ষণ, মামলাকারী স্বেচ্ছায়, জেনেবুঝে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বিকল্প ঠিকানায় থাকতে শুরু করেছিলেন। তা-ও পাকাপাকি ভাবে। এ অবস্থায় তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে দিতেই হবে, এমন নির্দেশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৭
৮১ বছর বয়সি বৃদ্ধার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় দিল্লি হাই কোর্টের।

৮১ বছর বয়সি বৃদ্ধার আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় দিল্লি হাই কোর্টের। — প্রতীকী চিত্র।

স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদ না হলেও আলাদাই থাকেন মহিলা। পাকাপাকি ভাবে অন্য জায়গায় থাকতে শুরু করেছেন। এখন চাইলেই তিনি আর শ্বশুরবাড়িতে ফিরতে পারেন না। সম্প্রতি এক মামলায় এমনটাই পর্যবেক্ষণ দিল্লি হাই কোর্টের।

Advertisement

৮১ বছর বয়সি এক বৃদ্ধা গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ তুলেছেন শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। বৃদ্ধার দাবি, তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে তাঁকে ‘আশ্রয়হীন’ করে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগে গার্হস্থ্য হিংসা প্রতিরোধ আইনের আওতায় মামলা করেন তিনি। কিন্তু মামলাকারী বৃদ্ধার দাবি কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজা।

হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ওই বৃদ্ধা স্বেচ্ছায় অন্যত্র থাকতে শুরু করেছিলেন। আদালতের মতে, যখন কোনও স্ত্রী স্বেচ্ছায় একটি পৃথক জায়গায় থাকতে শুরু করেন, তখন তাঁকে আগের ঠিকানায় (শ্বশুরবাড়িতে) থাকতে দিতেই হবে— এমন নির্দেশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে না। সেই আবেদন খারিজও করা যেতে পারে। কী কী কারণে আদালত এমন মনে করছে, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিচারপতি। তিনি জানান, বিয়ের পরে ওই মহিলা শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। কিন্তু এটিকে ‘শেয়ারড হাউসহোল্ড’ (শ্বশুরবাড়িতে স্ত্রীর থাকা) বলে ধরা যায় না। কারণ তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিলে স্বেচ্ছায়, জেনেবুঝে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বিকল্প ঠিকানায় থাকতে শুরু করেছিলেন।

বৃদ্ধা ওই বিকল্প ঠিকানায় পাকাপাকি ভাবেই থাকতে শুরু করেছিলেন বলে মনে করছে আদালত। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, মামলাকারী ওই বাড়ির বাইরে নিজের নামে একটি ফলকও লাগিয়েছেন। স্থায়ী ভাবে থাকা শুরু না-করলে তিনি ওই ফলক লাগাতেন না। আদালত আরও জানিয়েছে, বৃদ্ধা সাময়িক ভাবে ওই ঠিকানায় থাকতে শুরু করেননি। পারিপার্শ্বিক সব তথ্যই ইঙ্গিত দেয়, তিনি সচেতন ভাবেই নিজের বিকল্প বাসস্থান বেছে নিয়েছিলেন।

মামলাকারী বৃদ্ধা যে শ্বশুরবাড়িতে পুনরায় প্রবেশ করতে চাইছেন এবং তাঁর বর্তমান ঠিকানা— দু’টিই প্রায় একই মানের। ফলে সে দিক থেকেও মামলাকারীর আবেদন কতটা গ্রহণযোগ্য তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে আদালত।

Advertisement
আরও পড়ুন