সোনম ওয়াংচুক। —ফাইল চিত্র।
লাদাখের পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয় বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। গত শীর্ষ আদালতের সোমবারের প্রশ্নের জবাবে বুধবার সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, গত বছর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল লাদাখের রাজধানী লেহ্তে হিংসাত্মক বিক্ষোভে জড়িত থাকার অভিযোগে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে ওয়াংচুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই বিক্ষোভে চার জন নিহত এবং ১৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছিলেন। এই পরিস্থতিতে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে ওয়াংচুককে মুক্তি দেওয়া যাবে না।
ওয়াংচুককে কেন এখনও আটক করে রাখা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সোমবার তা জানতে চেয়েছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সোনমের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রকে ভাবনা-চিন্তা করতেও বলেছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি পি ভিভারালের বেঞ্চ। কিন্তু তুষার সেই সম্ভাবনা কার্যত নাকচ করে বলেছেন, ‘‘কারাগারের ম্যানুয়াল অনুসারে তাঁকে (ওয়াংচুক) পর্যায়ক্রমে প্রায় ২৪ বার পরীক্ষা করা হয়েছে। তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ। তাঁর হজমের সমস্যা ছিল, সংক্রমণজনিত সমস্যা ছিল। কিন্তু এখন তা নেই। আমরা যদি (তাঁকে মুক্তি দেওয়ার জন্য) এই ধরনের ব্যতিক্রম করা শুরু করি, তাহলে এটি কোনও ইতিবাচক ফলাফলের ইঙ্গিতবাহী হবে না।’’ কেন্দ্রের দাবি, অসুস্থ সোনমকে জয়পুরের এমসে চিকিৎসা করানো হচ্ছে। সেই হাসপাতালের পরিষেবা লাদাখের যে কোনও হাসপাতালের থেকে ভাল।
ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমোর দায়ের করা আবেদনের শুনানিতে গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের কাছে জানতে চেয়েছিল, পরিবেশবিদকে এখনও কেন আটক করে রাখা হয়েছে। সে সময় সোনমের আইনজীবীর দাবি, সোনম যথেষ্ট অসুস্থ এবং কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করে তাঁর কোনও উন্নতিই হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের আইনজীবী তথা অতিরিক্ত সলিসিটর কেএম নটরাজকে দুই বিচারপতির বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, তিনি যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এর উত্তর জেনে এসে আদালতে পেশ করেন। কিন্তু সোমবার শুনানির সময়ে অনুপস্থিত ছিলেন নটরাজ। কেন্দ্রের তরফে আর এক আইনজীবী জানিয়েছিলেন, নটরাজ এখন অন্য মামলায় ব্যস্ত, তাই ওয়াচুক-মামলার শুনানি আরও এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হোক, সুপ্রিম কোর্টের কাছে কেন্দ্রের তরফে এই আবেদন করা হয়। বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এ ভাবে বারবার মামলার শুনানি পিছোনো যাবে না। এই পরিস্থিতিতে বুধবার মামলায় শুনানিতে কেন্দ্রের হয়ে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার স্বয়ং। প্রসঙ্গত, গত বছর ২৬ সেপ্টেম্বর লাদাখে ‘অশান্তিতে মদত দেওয়ার জন্য’ আটক করা হয়েছিল ওয়াংচুককে।