অভিষেক শর্মা। ছবি: পিটিআই।
পেটের সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল অভিষেক শর্মাকে। বুধবারই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নামিবিয়া ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে এসে জানিয়েছেন তিলক বর্মা। তবে অভিষেক বৃহস্পতিবার খেলতে পারবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি। একই সঙ্গে তিলক জানিয়েছেন, পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে গোটা দল উত্তেজিত।
মঙ্গলবার অনুশীলন করেননি অভিষেক। পরে জানা যায়, তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। এ দিন তিলক বলেছেন, “আমরা দিল্লিতে পৌঁছনোর পর তিলকের পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে আরও পরীক্ষা করানো হয়েছে। মনে হয় হাসপাতাল থেকে ও আজই ছাড়া পেয়ে গিয়েছে। এখন ভালই আছে। এখনও ম্যাচের একটা দিন বাকি। ও কেমন আছে সেটা দেখে ম্যাচের দিন সকালেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
জসপ্রীত বুমরাহও সুস্থ হয়ে গিয়েছেন। তবে অভিষেকের মতোই তাঁরও খেলা নিশ্চিত নয়। তিলক বলেছেন, “কালকের ম্যাচের জন্য তৈরি বুমরাহ। কিন্তু দলের কম্বিনেশন ভাবার জন্য হাতে এখনও সময় রয়েছে।” অভিষেক খেলতে না পারলে ওপেন করবেন সঞ্জু স্যামসন। বুমরাহ খেললে বসতে হবে মহম্মদ সিরাজকে।
রবিবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত। টালবাহানার পর সোমবার রাতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। সে প্রসঙ্গে তিলক বলেন, “আমরা আগে থেকেই উৎসাহিত ছিলাম। পাকিস্তান ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি আগে থেকেই শুরু করে দিয়েছি। খেলা হওয়ার খবর পাওয়ার পরেও আমরা খুশি।”
গত কয়েকটি ম্যাচে তিন নম্বরে নামছেন তিলক। তবে দলের প্রয়োজনে যে কোনও জায়গায় খেলতে তৈরি বলে জানিয়েছেন। তিলকের কথায়, “আমি যে কোনও জায়গায় ব্যাট করতে পারি। চেষ্টা করি ইনিংসের শেষ পর্যন্ত থাকতে। আমার কাছে শটের অভাব নেই। মাঝের দিকের ওভারে দায়িত্ব নিয়ে খেলতে হয়। সেই ভূমিকার সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি।”
তিলকের সংযোজন, “আমার হাতে ব্যাট না থাকলে অস্থির লাগে। মনে হয় যেন অন্য বিশ্বে রয়েছি। প্রতিটা রাতে আমি নিজের খেলাকে মনে মনে কল্পনা করি। তাই বিরতি না পেলেও আমার কোনও সমস্যা নেই। আমি সব সময় সেই মানসিক অবস্থার মধ্যেই থাকি। চোট পেয়ে বিরতি নিতে হলেও সেই মানসিকতা থেকে বেরোইনি।”
বিশ্বকাপের ঠিক আগে চোট পেলেও শেষ মুহূর্তে সুস্থ হয়ে প্রতিযোগিতায় নামতে পারার জন্য আপ্লুত তিলক। বলেছেন, “বিশ্বকাপের দলে ফিরতে পেরে সত্যিই ভাল লাগছে। কয়েক সপ্তাহ নিজেকে ভাল ভাবে প্রস্তুত করেছি। বিশ্বকাপ জেতাই আসল লক্ষ্য। দলের জন্য সব সময় অবদান রাখতে চাই। প্রস্তুতি ম্যাচে খেলার সময় মনেই হয়নি যে, কিছু দিন বিরতি নিয়েছিলাম।”
গ্রুপের শীর্ষে থেকেই ভারত পরের রাউন্ডে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। তিলক অত দূর ভাবতে চাইছেন না। তিনি বলেছেন, “এখনই সুপার এইট নিয়ে ভাবার কোনও দরকার নেই। আমরা একটা ম্যাচ ধরে ধরে এগোচ্ছি। বিশ্বকাপে কোনও দলকেই হালকা ভাবে নিচ্ছি না। টি২০ খুব ছোট ফরম্যাট। যা খুশি হতে পারে। নিজেদের সেরাটা দিতে হবে প্রতি ম্যাচেই।”