Bangladesh Election

জাতীয় সংসদের পাশাপাশি বৃহস্পতির বাংলাদেশে হবে গণভোট, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কী কী বিষয় রয়েছে এতে?

ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী চারটি বিষয়ের উপর একটি প্রশ্নের ভিত্তিতে হবে ওই গণভোট। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কি না, সেই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেবেন ভোটাররা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৬
Why referendum and general election will held together in Bangladesh

—প্রতীকী চিত্র।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার একই সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে বাংলাদেশে। গত নভেম্বরে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী চারটি বিষয়ের উপর একটি প্রশ্নের ভিত্তিতে হবে ওই গণভোট। গণভোটের ব্যালট জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট থেকে আলাদা এবং ভিন্ন রঙের হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত হল, গণভোটের ব্যালট পেপার হবে রঙিন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো গণভোটেও প্রবাসী-সহ চার শ্রেণির নাগরিকদের জন্য পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

Advertisement

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কি না, সেই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেবেন ভোটাররা। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ৫ অগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের বর্ষপূর্তিতে ‘৩৬ জুলাই উদ্‌যাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করেছিলেন ইউনূস। ২৮ দফার ওই ঘোষণাপত্র হল ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল, যার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মুজিবুর রহমান এবং হাসিনার আমলে ‘আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারের’ পাশাপাশি ওই সনদে সমালোচনা করা হয়েছে দুই সেনাশাসক, জিয়াউর রহমান (বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা) এবং হুসেন মহম্মদ এরশাদের (জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা) জমানারও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে ওই সনদে।

সেই সঙ্গে জুলাই রয়েছে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে ৮৪ দফা প্রশাসনিক সংস্কারের ঘোষণা। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাবনা সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথাও জানিয়েছে ইউনূস সরকার। গণভোটে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব থাকলেও এর মধ্যে কোনওটিতে বিএনপি, কোনওটিতে জামায়াত আবার কোনওটিতে এনসিপির আপত্তি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দলগুলির তরফে এ ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র গণভোট নিয়ে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে প্রচার শুরু হয়েছিল। পরে অবশ্য সেই অবস্থা থেকে সরে এসে সরাসরি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের প্রচার শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সম্প্রতি টিভি-রেডিয়োতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে উদ্দেশে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউনূস বলেন, ‘‘যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেন বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়ন থেকে মুক্ত হবে দেশ। নতুন বাংলাদেশ গড়ার দরজা খুলে যাবে।’’

ইউনূস গত ১৩ নভেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানিয়েছিলেন, আগামী বছর জাতীয় সংসদের নির্বাচন এবং জুলাই সনদ কার্যকরের উদ্দেশে গণভোট একই সঙ্গে হবে। ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ (‘জামাত’ নামেই যা পরিচিত)-র নেতারা দাবি তুলেছিলেন, জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আগে গণভোটের আয়োজন করতে হবে বাংলাদেশে! অন্য দিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি-র দাবি ছিল, কোনও অবস্থাতেই জাতীয় সংসদের নির্বাচনের আগে সংস্কার প্রস্তাব সংক্রান্ত গণভোট করানো চলবে না। এই আবহে জাতির উদ্দেশে ভাষণে ইউনূস জানান, রাজনৈতিক দলগুলির মতামত নেওয়ার পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গণভোটের নির্ঘণ্ট স্থির করার ভার অন্তর্বর্তী সরকারকে দিয়েছিল। তার পরেই এক সঙ্গে দুই ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

যে চারটি বিষয়ের উপর গণভোট হবে, সেগুলি হল—

১. নির্বাচনের আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে গঠন করা হবে।

২. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

৩. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলির ঐকমত্য হয়েছে সেগুলি বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দল বা জোট বাধ্য থাকবে।

৪. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন