(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নরেন্দ্র মোদী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের এ বারের বাজেট ভাষণে ইরানের চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য নতুন করে কোনও বরাদ্দ ঘোষণা ছিল না। তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিরোধীরা। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার সংসদে বিরোধীদের তোলা সেই প্রশ্নের জবাব দিল।
গত কয়েক বছর ধরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলের এই বন্দর প্রকল্পের জন্য বার্ষিক অর্থবরাদ্দ করে আসছে ভারত। প্রতি বছর ১০০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছিল এই প্রকল্পে। এ বার তা থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে। চাবাহার বন্দর প্রকল্পের জন্য কোনও আর্থিক বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়নি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে। রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খড়্গে সরকারকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তারা কোন পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ করেছে। পাশাপাশি চাবাহার বন্দর প্রকল্পের উন্নয়ন ও পরিচালনায় নয়াদিল্লির তরফে তেহরানের জন্য বরাদ্দ তহবিল এবং ব্যয়ের পরিমাণ সম্পর্কেও জানতে চান তিনি।
জবাবে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং এক লিখিত জবাবে জানান, চাবাহার বন্দর প্রকল্পে ভারতের অংশগ্রহণের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বা শুল্ক নীতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করার জন্য সরকারের তরফে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের উপকূলে সিস্তান-বালোচিস্তান প্রদেশের চাবাহার বন্দর কৌশলগত ভাবে ভারতের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে উত্তেজনার আবহে এই বন্দরের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে নয়াদিল্লির কাছে। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান-সহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, ইউরোপ এবং রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য চাহাবার ভারতের কাছে কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
কীর্তিবর্ধন বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘ইরানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্পে কাজ চালাচ্ছে ভারত। চাবাহার বন্দরের শহিদ বেহেস্তি টার্মিনালের সরঞ্জাম এবং পরিচালনার জন্য ‘ইন্ডিয়া পোর্টস গ্লোবাল লিমিটেড’ এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সমুদ্র সংস্থার মধ্যে ১৩ মে ২০২৪ তারিখে স্বাক্ষরিত মূল চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ১২০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১০৮৩ কোটি টাকা) বিনিয়োগে প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছে।” প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে সংঘাতের জেরে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইরানের উপরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চাবাহার বন্দর প্রকল্পে বিনিয়োগের ‘অপরাধে’ ভারতের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যদিও পরে দিল্লিকে ছ’মাস সময় দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ওই ‘ছাড়’-এর মেয়াদ ফুরোচ্ছে আগামী এপ্রিলে।