(বাঁ দিকে) ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভলোদিমির জ়েলেনস্কি (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রথম দিনের বৈঠক ‘গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে বলে দাবি করল ইউক্রেন। আমেরিকার মধ্যস্থতায় বুধবার থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবিতে ওই আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চলছে দ্বিতীয় দিনের আলোচনা।
ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের নেতা তথা জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান রুস্তম উমেরভ বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘প্রথম দিনের আলোচনা ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ। সংঘাতের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়ে আমরা আশাবাদী।’’ যদিও আবুধাবিতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বুধবার ডনবাস এলাকায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে ইউক্রেন ও রুশ সেনার। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সরকার অভিযোগ তুলেছে, পরিকল্পিত ভাবে তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে শীতের মরসুমে নিশানা করছে রুশ সেনা।
আবু ধাবির ওই বৈঠকে মার্কিন মধ্যস্থতাকারী দলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তাঁর সঙ্গী ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এর আগে গাজ়ায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ক্ষেত্রেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উইটকফ-কুশনার জুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। গত ডিসেম্বরে তাঁরা দু’জন মস্কোয় গিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। তার পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেছিলেন, ‘‘২৮ দফা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে চারটি পৃথক প্যাকেজে ভেঙে আমরা কথা বলেছি। ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’’ কিন্তু তার পরেও রুশ বাহিনী হামলার অভিঘাত নিয়ন্ত্রণ করেনি। আমেরিকার মিয়ামিতে যুদ্ধবিরতি বৈঠকেও কোনও অগ্রগতি হয়নি। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি পুতিনের ‘ইউক্রেন অভিযানে’র চতুর্থ বর্ষপূর্তি। তার আগে যুদ্ধবিরতির সমাধানসূত্র মিলতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান।