ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
দিল্লিতে চলতি বছরের প্রথম দু’সপ্তাহে ৫০০-র বেশি মহিলা-সহ ৮০৭ নিখোঁজ হয়েছেন বলে খবর রটেছিল। সংবাদসংস্থা পিটিআই বিপুল সংখ্যক নিখোঁজের খবর প্রকাশ করেছিল। এ বার দিল্লি পুলিশের দেওয়া ‘নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্যে’র স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে তদন্ত শুরু করল জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। দু’সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দাখিল করার জন্য দিল্লির মুখ্যসচিব এবং পুলিশ কমিশনারকে নোটিস জারি করেছে কমিশন।
‘দিল্লি পুলিশের তথ্যের’ কথা উল্লেখ করে কমিশনের তরফে সোমবার একটি বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত শুরুর কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম দু’সপ্তাহে রাজধানীতে ৮০৭ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে তদন্ত করছে ভারতের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি)। এর মধ্যে ১৯১ জন নাবালক এবং ৬১৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক। পুলিশ ২৩৫ জনকে খুঁজে বের করেছে এবং ৫৭২ জন এখনও নিখোঁজ।’’ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘‘কমিশন পর্যবেক্ষণ করেছে যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু যদি সত্য হয়, তা হলে তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা। তাই, দিল্লি সরকারের মুখ্যসচিব এবং দিল্লির পুলিশ কমিশনারকে নোটিস জারি করে দু’সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।’’
কমিশন জানিয়েছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দিল্লিতে মোট ২৪৫০৮ জন নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ৬০ শতাংশই ছিলেন নারী। পুলিশ ১৫৪২১ জন নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে বার করতে পেরেছে। ৯০৮৭টি মামলা এখনও অমীমাংসিত। সেই সঙ্গে প্রতিবেদনে প্রকাশিত ‘দিল্লি পুলিশের তথ্য’ কিশোর-কিশোরীদের ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেছে বলে কমিশনের মত। কারণ, ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে ৫০০০ জনেরও বেশি কিশোর-কিশোরী, (যার মধ্যে প্রায় ৩৫০০ জন কিশোরী) নিখোঁজ হচ্ছে বলে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল। পিটিআই-এর ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ২০২৫ সালে দিল্লিতে মোট ২৪৫০৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলেছিল। তার মধ্যে ১৪৮৭০ জন ছিলেন মহিলা।
প্রসঙ্গত, গত ৬ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পরের দিনই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ। জানানো হয়েছিল, বাণিজ্যিক অভিসন্ধিতে এই সমস্ত ভুয়ো প্রচার করা হচ্ছে। আদৌ বছরের প্রথম মাসের প্রথমার্ধে দিল্লি থেকে এত সংখ্যক মহিলা নিখোঁজ হননি। এই ধরনের ভুয়ো খবর ছড়ালে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে বলেও সতর্ক করেছিল রাজধানীর পুলিশ। দিল্লি পুলিশের তরফে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে লেখা হয়েছিল, ‘‘কয়েকটি তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে আমরা জানতে পেরেছি, দিল্লিতে হঠাৎ করে বালিকা নিখোঁজ বেড়ে যাওয়া সংক্রান্ত যে খবর রটানো হচ্ছে, তার নেপথ্যে বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে। আর্থিক লাভের জন্য এ ভাবে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করা চেষ্টা কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আমরা এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করব।’’