Tejpratap Yadav

‘সন্তান আমার নয়, কোনও সম্পর্ক নেই অনুষ্কার সঙ্গে’, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন লালু-পুত্র তেজপ্রতাপ

‘দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ’ এবং ‘পারিবারিক মূল্যবোধ ক্ষুণ্ণ’ করার কারণে গত বছরের মে মাসে তেজপ্রতাপকে দল এবং পরিবার থেকে বিতাড়িত করেছিলেন লালু। বিহারে বিধানসভা ভোটের দু’মাস আগে নতুন দল ‘জনশক্তি জনতা দল’ (জেজেডি) গড়েছিলেন তিনি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৩
Lalu Prasad’s son and expelled RJD leader Tej Pratap Yadav denies links with Anushka, claims conspiracy

(বাঁ দিকে) অনুষ্কা যাদব এবং তেজপ্রতাপ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

তাঁর সঙ্গে ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পরেই গত বছর মে মাসে পরিবার এবং দল থেকে বিতাড়িত হয়েছিলেন আরজেডি প্রধান লালুপ্রসাদের জ্যেষ্ঠপুত্র তেজপ্রতাপ যাদব। সোমবার সেই অনুষ্কা যাদবের সঙ্গে সম্পর্কের কথা সরাসরি অস্বীকার করলেন তেজপ্রতাপ। তাঁর এবং অনুষ্কার সন্তান রয়েছে বলে যে ‘খবর’ ছড়িয়েছে, তা সরাসরি ‘গুজব’বলেও উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

তাঁর এবং অনুষ্কার এক সন্তান রয়েছে বলে সম্প্রতি বিহারে যে জল্পনা ছড়িয়েছে, তাকে ‘পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ বলে চিহ্নিত করেছেন তেজপ্রতাপ। তিনি বলেন, ‘‘আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এমন মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে। চক্রান্তকারীদের বিরুদ্ধে আমি আইনি পদক্ষেপ করব।’’ কারা সেই চক্রান্তকারী? এ ক্ষেত্রে তেজপ্রতাপের নিশানা তাঁর ভাই তেজস্বী যাদবের ঘনিষ্ঠ আরজেডি নেতা মুকেশ রোশন সঞ্জয় যাদব, শক্তি সিংহ এবং সুনীল সিংহ। এমনকি, তেজ বলেন, ‘‘মুকেশ আমাকে খুনের ষড়যন্ত্র করছে।’’

গত ২৪ মে সমাজমাধ্যমে তেজপ্রতাপ এবং অনুষ্কার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল। তেজপ্রতাপের অ্যাকাউন্ট থেকে করা সেই পোস্টে দাবি করা হয়, অনুষ্কার সঙ্গে লালুপুত্রের ১২ বছরের সম্পর্কের বিষয়টি। ওই পোস্ট নিয়ে আলোচনার মধ্যেই লালু জানান, তাঁর বড় ছেলে তেজপ্রতাপকে দল এবং পরিবার থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। যদিও সে সময় তেজপ্রতাপ জানান, তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি ‘হ্যাক’ করা হয়েছিল। ওই পোস্টটি তিনি লেখেননি। সরিয়েও দিয়েছিলেন পোস্টটি। অনেকের দাবি, তেজপ্রতাপের ওই যুক্তিতে চিঁড়ে ভেজেনি। পুত্রের কীর্তিতে পরিবার এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে, সেই আশঙ্কা থেকেই তেজপ্রতাপের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করেছেন লালু! তবে এই ব্যাপারে লালু সরাসরি কোনও মন্তব্য করেননি।

লালু, তেজপ্রতাপ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই উঠে এসেছিল অনুষ্কা প্রসঙ্গ। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দাবি করা হয়, অনুষ্কা পটনার লঙ্গরটোলির বাসিন্দা মনোজ যাদবের কন্যা। তাঁর দাদা আকাশ যাদব। তেজপ্রতাপের হাত ধরেই একসময় আরজেডিতে এসেছিলেন আকাশ। এমনকি, তাঁকে আরজেডির ছাত্র শাখার সভাপতিও করে দিয়েছিলেন তেজপ্রতাপ। তেজের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দলের মধ্যে বিস্তর অশান্তিও হয়েছিল। আকাশকে এ ভাবে আরজেডির ছাত্র শাখার সভাপতি করাকে ভাল ভাবে নেননি দলের তৎকালীন রাজ্য সভাপতি জগদানন্দ সিংহ। প্রতিবাদ করেন। তৎক্ষণাৎ আকাশকে সরিয়ে আরজেডির ছাত্র শাখার সভাপতি করে দেন গগন যাদবকে। এই নিয়ে তেজপ্রতাপের সঙ্গে ঝামেলাও হয় তাঁর। সেই সময়ই আকাশ আরজেডি ছেড়ে পশুপতি পারসের আরএলএসপি-তে যোগ দেন। তাতে আরও রেগে যান তেজপ্রতাপ। জগদানন্দকে আদালতে টেনে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

২০১৮ সালে বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দারোগা রাইয়ের নাতনি এবং প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিকা রাইয়ের মেয়ে ঐশ্বর্যার সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তেজপ্রতাপ। তবে সেই বিয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই বাপের বাড়ি ফিরে যান ঐশ্বর্যা। খবরে বলা হয়েছিল, তিনি কাঁদতে কাঁদতে তেজপ্রতাপের বাড়ি ছেড়েছিলেন। লালুর পরিবারের বিরুদ্ধে অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি, যা নিয়ে বিবাদে জড়ায় দুই পরিবার। লালুর দল আরজেডি ছেড়ে দেন ঐশ্বর্যার পিতা চন্দ্রিকা। বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা গড়িয়েছিল আদালতে। গত বছর বিহার বিধানসভা ভোটের আগে ‘জনশক্তি জনতা দল’ (জেজেডি) গঠন করে লালুর দলের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তবে নির্বাচনে পরাজিত হন তেজ। তাঁর দলের কোনও প্রার্থীই জিততে পারেননি।

Advertisement
আরও পড়ুন