(বাঁ দিকে) গাড়ি দুরন্ত গতিতে ছোটার সময় ভিডিয়ো করা হচ্ছিল। (ডান দিকে) মৃত যুবক সাহিল ধানাস্রে। ছবি: সংগৃহীত।
ভিড় রাস্তার মধ্যে দিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটছে একটি এসইউভি। স্টিয়ারিংয়ে এক নাবালক। তার পাশে বসে এক কিশোরী। গাড়ির সেই গতির ‘খেলার’ রিল বানাচ্ছিল ওই কিশোরী।
রাস্তার উল্টো দিক থেকে আসা একের পর এক গাড়িকে পাশ কাটিয়ে বেপরোয়া ভাবে ছুটছিল সেই এসইউভি। এক জায়গায় বাঁক নিতে দেখা গেল। গতি কিছুটা শ্লথ হয়েছিল। বাঁক নেওয়ার পরই আবার গতি উঠল গাড়ির। সব কিছু ক্যামেরাবন্দি হচ্ছিল চালকের পাশের আসনে বসা কিশোরীর মোবাইলে। তার পরই দুর্ঘটনা। ক্যামেরায় ধরা পড়েছে উল্টো দিক থেকে বাইক চালিয়ে আসছিলেন এক যুবক। সামনে থাকা একটি বাসকে ওভারটেক করতে যাওয়ার সময়েই দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা সেই এসইউভির ধাক্কায় বাইক থেকে কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়লেন তিনি। মৃত্যু হয় যুবকের।
দিল্লির এই ঘটনায় এখন তোলপাড় চলছে। এই ঘটনাই পুণের পোর্শেকাণ্ডের স্মৃতিকে উস্কে দিয়েছে। সেই ঘটনাতেও চালকের আসনে ছিল এক নাবালক। দিল্লির ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। মৃত যুবকের নাম সাহিল ধানেস্রা। তাঁর মা অপর একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে দাবি করেছেন, ভিডিয়োটি কাটছাঁট করা হয়েছে। যে সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই সময়েরই দৃশ্য নেই এই ভিডিয়োয়। অভিযুক্ত নাবালক চালককে প্রথমে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। তার পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দিয়েছে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড। আদালতের যুক্তি, অভিযুক্তের বোর্ডের পরীক্ষা থাকার জন্য সাময়িক ভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর দ্বারকায় এক নাবালকের এসইউভির ধাক্কায় মৃত্যু হয় বাইক আরোহী যুবক সাহিল ধানেস্রার (২৩)। পুত্রের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে আর্জি জানিয়েছেন মা। সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।