Manipur

ট্যাবলো, পদক নিয়ে অসন্তোষ কুকিদের

মণিপুরের জিরিবামে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর সিআরপিএফের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ জন মার সম্প্রদায়ভুক্ত সশস্ত্র যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার জন্য, এ বছর সিআরপিএফ-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট বিপিন উইলসনকে শৌর্য চক্র প্রদান করা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৭:৩৮

—প্রতীকী চিত্র।

দিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো থেকে শুরু করে সংঘর্ষ-বিধ্বস্ত মণিপুরের অভিযানে অংশ নেওয়া সিআরপিএফ অফিসারের পদকপ্রাপ্তি— প্রজাতন্ত্র দিবসে জোড়া অসন্তোষ প্রকাশ করল রাজ্যের কুকি জনগোষ্ঠী। তাদের অভিযোগ, এ দিনের কুচকাওয়াজে মণিপুরের ট্যাবলোতে রাজ্যের বিভিন্ন জনজাতির পরিচয় তুলে ধরা হলেও কুকি-জ়োদের বাদ রাখা হয়েছে। তা নিয়েও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কুকিরা।

মণিপুরের জিরিবামে ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর সিআরপিএফের সঙ্গে সংঘর্ষে ১০ জন মার সম্প্রদায়ভুক্ত সশস্ত্র যুবকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার জন্য, এ বছর সিআরপিএফ-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট বিপিন উইলসনকে শৌর্য চক্র প্রদান করা হয়েছে। এর তীব্র বিরোধিতা করেছে কুকি অর্গানাইজ়েশন ফর হিউম্যান রাইটস ট্রাস্ট। তাদের অভিযোগ, ওই ঘটনায় নিহতেরা মোটেই সশস্ত্র জঙ্গি ছিলেন না, বরং তাঁরা কুকি-জ়ো (মার) সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবক গ্রামরক্ষী ছিলেন। সরকারি বয়ানে তাঁদের জঙ্গি (মিলিট্যান্ট) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা অন্যায়, অমানবিক ও চূড়ান্ত অসত্য। কুকি সংগঠনটির অভিযোগ, ওই ঘটনাটি কোনও ‘সংঘর্ষ’ ছিল না, বরং ছিল ‘বিচার-বহির্ভূত হত্যা’। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণ থেকে জানা গিয়েছে, নিরস্ত্র গ্রামরক্ষীদের আটক করার পরে নৃশংস ভাবে মারা হয়েছে। তাই কুকি সংগঠনটির বক্তব্য, এমন ‘সাজানো’ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অফিসারকে প্রজাতন্ত্র দিবসে বীরত্ব পদক দিয়ে সম্মান জানানোটা সংবিধানিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনের প্রতি কেন্দ্রের অবজ্ঞার পরিচায়ক। তাদের দাবি, বিপিন উইলসনকে দেওয়া শৌর্য চক্র এবং সংশ্লিষ্ট সব শংসাপত্র অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। সেই সঙ্গে ওই ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

আরও পড়ুন