এস জয়শঙ্কর। —ফাইল চিত্র।
থমকে থাকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো শুল্ক-জরিমানা, ভারত-পাক সংঘর্ষ বন্ধ করার কৃতিত্ব নিতে আমেরিকান প্রেসিডেন্টের মরিয়া হয়ে ওঠা, তাঁর অভিবাসন নীতি— এ সবের জেরে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অস্বস্তির মেঘ ঘনিয়েছে ভালই। তবে সেই মেঘের আড়ালে আজ কিছুটা আলো দেখা গেল বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে আমেরিকান কংগ্রেসের তিন সদস্য এবং আমেরিকান রাষ্ট্রদূতের বৈঠকে।
ভারত সফরে আসা আমেরিকান কংগ্রেসের প্রতিনিধিদলটিতে রয়েছেন রিপাবলিকান সদস্য জিমি পেট্রোনিস, মাইক রজার্স এবং ডেমোক্র্যাট সদস্য অ্যাডাম স্মিথ। আজ নয়াদিল্লিতে বৈঠকে এঁদের পাশাপাশি ছিলেন ভারতে আমেরিকার নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সের্জিয়ো গোর। এক্স হ্যান্ডলে জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক, ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং ইউক্রেনের সংঘাত নিয়ে ‘ভাল আলোচনা’ হয়েছে তাঁদের। বিদেশমন্ত্রী এ-ও বলেছেন, ‘সংসদীয় স্তরে আলোচনা সব সময়েই গুরুত্বপূর্ণ।’
রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমানোয় আমেরিকা ভারতের উপরে চাপানো বাড়তি শুল্ক প্রত্যাহার করতে পারে বলে সদ্য ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকান ট্রেজ়ারি-সচিব স্কট বেসেন্ট। তার পরেই জয়শঙ্করের সঙ্গে আমেরিকান কংগ্রেস সদস্যদের বৈঠকটি বাড়তি তাৎপর্য পেয়েছে। বস্তুত, জয়শঙ্করের এই বৈঠক সংক্রান্ত পোস্টটি তুলে ধরেই এক্স-বার্তায় আমেরিকান রাষ্ট্রদূত গোর জানিয়েছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। নিরাপত্তা, বর্ধিত বাণিজ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-ক্ষেত্রে ভারত-আমেরিকা অংশীদারি মজবুত করার উদ্দেশ্যেই ছিল এই বৈঠক। তবে ট্রাম্পের প্রশাসনের দাবি সত্ত্বেও কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার আমেরিকাকে পুরোপুরি খুলে দিতে নারাজ ভারত। এ ক্ষেত্রে দেশের কৃষক ও দুগ্ধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিচ্ছে নয়াদিল্লি। বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার পথে সেটি অন্যতম বড় বাধা।