Harish Rana Euthanasia Case

‘সকলকে ক্ষমা করো, এখন যাওয়ার সময় হয়েছে’! হরীশকে শেষ বিদায় জানাল পরিবার, পাঠানো হচ্ছে এমসে

সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি এমসকে নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, পরিকল্পনা করে হরীশের জীবনদায়ী ব্যবস্থা খুলে নিতে হবে। যাতে কোনও ভাবেই তাঁর মর্যাদাহানি না হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। কবে, কী ভাবে হরীশের জীবনদায়ী ব্যবস্থা খুলে নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৬
হরীশ রানার মাথায় হাত বোলাচ্ছেন মা।

হরীশ রানার মাথায় হাত বোলাচ্ছেন মা। — ফাইল চিত্র।

খাটে শোয়ানো রয়েছে স্থির শরীরটা। এ দিক-ও দিক তাকাচ্ছেন। তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন এক মহিলা। বলছেন, ‘‘এ বার যাওয়ার সময় হয়েছে, ঠিক আছে?’’ খাটের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মা। হরীশ রানাকে গাজ়িয়াবাদের বাড়ি থেকে শেষ বিদায় জানাল তাঁর পরিবার। তাঁকে পাঠানো হচ্ছে দিল্লির এমসে। সেখানে হরীশের জীবনদায়ী ব্যবস্থা ধীরে ধীরে খুলে নেবেন চিকিৎসকেরা। গত সপ্তাহেই সুপ্রিম কোর্ট হরীশের ‘পরোক্ষ’ নিষ্কৃতিমৃত্যু (প্যাসিভ ইউথানেশিয়া)-র অনুমতি দিয়েছে। তাঁর বাবা-মায়ের আবেদনে সায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

Advertisement

সুপ্রিম কোর্ট দিল্লি এমসকে নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছে, পরিকল্পনা করে হরীশের জীবনদায়ী ব্যবস্থা খুলে নিতে হবে। যাতে কোনও ভাবেই তাঁর মর্যাদাহানি না হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। কবে, কী ভাবে হরীশের জীবনদায়ী ব্যবস্থা খুলে নেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। গাজ়িয়াবাদের বাড়ি থেকে হরীশকে শেষ বিদায় জানাল তাঁর পরিবার। একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে (আনন্দবাজার ডট কম তার সত্যতা যাচাই করেনি)।

ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, হরীশের মাথায় হাত বোলাচ্ছেন এক মহিলা। পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাঁর মা। ওই মহিলা হরীশের কপালে তিলক পরিয়ে দেন। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘সকলকে ক্ষমা করে, সকলের থেকে ক্ষমা চেয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। ঠিক আছে!’’ মাউন্ট আবুর একটি সংগঠনের সদস্য ওই মহিলা। সংগঠনকে উদ্ধৃত করে পিটিআই জানিয়েছে, ওই মহিলা গাজ়িয়াবাদের মোহন নগর সেবাকেন্দ্রের সিস্টার লাভলি এবং তাঁর সঙ্গে রয়েছেন কোমল নামে এক সদস্য। হরীশের বাবা-মা ওই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। পুত্রের নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আইনি লড়াই করতে তাঁদের সাহায্য করেছে ওই সংগঠন।

চণ্ডীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন হরীশ। ২০১৩ সালে হস্টেলের পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে চোট পান তিনি। সেই থেকে সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী তিনি। ডাক্তারি পদ্ধতিতে হরীশের নিষ্কৃতিমৃত্যু চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা। তাঁরা জানিয়েছিলেন, ২০১৩ সাল থেকে তাঁদের সন্তান শয্যাশায়ী। তাঁর সেরে ওঠার আর কোনও সম্ভাবনা নেই। দিনের পর দিন অসুস্থতা আরও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পুত্রের কষ্ট লাঘব করার জন্যই তাঁর মৃত্যু প্রয়োজন। তবে প্রত্যক্ষ নয়, হরীশের জন্য পরোক্ষ মৃত্যুদানের আবেদন জানানো হয়।

প্রত্যক্ষ মৃত্যুদানের ক্ষেত্রে রোগীর কষ্ট লাঘবের জন্য চিকিৎসক এমন কোনও ওষুধ দেন, যাতে দ্রুত মৃত্যু নেমে আসে। এ ক্ষেত্রে তা চাওয়া হয়নি। চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়ে, লাইফ সাপোর্ট তুলে নিয়ে মৃত্যুদানের কথা বলা হয়েছিল। বিচারপতি জেবি পর্দীওয়ালা এবং বিচারপতি কেভি বিশ্বনাথনের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শীর্ষ আদালত হরীশের বাবা-মায়ের আবেদনে সম্মতি দিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন