ইরানে আটক জাহাজের সেই মার্চেন্ট নেভি অফিসার সঞ্জয় মাহার। ছবি: সংগৃহীত।
জাহাজ লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসছিল গুলি। কোনওমতে জাহাজে সওয়ার সকলে দৌড়ে পালিয়েছিলেন নিরাপদ আশ্রয়ে। ইরানের হাতে আটক জাহাজের ভারতীয় মার্চেন্ট নেভি অফিসার এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারকে। ৩৮ বছরের সঞ্জয় মাহারের পরিবার রাজস্থানের শ্রী গঙ্গানগরের বাসিন্দা। ইরানের হাতে জাহাজ আটক হওয়ার খবরে পরিবারের সদস্যেরা উদ্বিগ্ন। সঞ্জয়ের বাবা ওমপ্রকাশ মাহার জানিয়েছেন, জাহাজের কর্মীরা নিরাপদে রয়েছেন। এমনটাই জানিয়েছেন তাঁর পুত্র।
হরমুজ় পার হওয়ার সময় ভারতগামী একটি জাহাজকে আটক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। জাহাজটির নাম ‘এপামিনোনডেস’। ওই জাহাজেই সওয়ার ছিলেন সঞ্জয়-সহ ২১ জন। প্রথম সংবাদমাধ্যমের থেকে বিষয়টি জানতে পারে পরিবার। পরে বাড়িতে ফোন করেন সঞ্জয়। তিনি জানান, তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন। তাঁর বাবা ওমপ্রকাশের কথায়, ‘‘হরমুজ় প্রণালী পার হওয়ার সময় ইরানের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গুলি ছুটে আসছিল। জাহাজের কর্মীরা দ্রুত ভিতরে গিয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।’’
আটক জাহাজটিতে লাইবেরিয়ার পতাকা রয়েছে। তার গন্তব্য গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দর। পারাপারের ছাড়পত্রের জন্য হরমুজ়ের কাছে তিন থেকে চার দিন জাহাজটি অপেক্ষা করছিল। সঞ্জয় বাড়িতে ফোন করে বলেন, ‘‘জাহাজটি যখন এগোচ্ছিল, তখন ছুটে আসে গুলি।’’ তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন বলে জানালেও উদ্বেগে পরিবার। সঞ্জয়ের বাবা ওমপ্রকাশ বলেন, ‘‘ও বলেছে নিরাপদে রয়েছে। কিন্তু আমরা খুব উদ্বেগে। ওই জাহাজে সওয়ার ভারতীয়দের যাতে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়, সে জন্য সরকারের কাছে আবেদন করছি।’’ সঞ্জয়ের ভাই সুভাষ জানিয়েছেন, স্থানীয় বিধায়ক জয়দীপ বিহানির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন তাঁরা। তাঁকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করার আর্জি জানিয়েছে পরিবার।
ভারত ছাড়াও জাহাজে ফিলিপিনস, ইউক্রেন, শ্রীলঙ্কার নাবিকেরা রয়েছেন। মার্চেন্ট নেভিতে সঞ্জয় কাজ করছেন ১৫ বছর ধরে। ২০ দিন আগেই বাড়ি থেকে সৌদি আরবে কাজে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর দাবি, আটক জাহাজ দু’টি কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই হরমুজ় দিয়ে অগ্রসর হচ্ছিল। সে কারণেই তাদের পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। এপামিনোনডেস জাহাজটি ওমান থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে ইরান বাহিনীর হাতে আটক হয়েছে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানায়, এপামিনোনডেস নামে জাহাজটিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে ইরান বাহিনীর ‘গানার বোট’ থেকে। এ ছাড়াও রকেট ছোড়া হয়েছে। যদিও গুলি বা রকেট ছোড়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি আইআরজিসি। জাহাজে সওয়ার ভারতীয় নাবিকও পরিবারকে এ বার জানালেন সেই গুলি ছোড়ার কথা।