Feel the Jail

জেলের খাবার খেতে কেমন? কয়েদির জীবনের অভিজ্ঞতা নিতে গোটা দিন কাটানো যাবে গারদে! খরচ ২ হাজার

হায়দরাবাদের সেন্ট্রাল জেলের তরফে বলা হচ্ছে, বন্দিজীবন কেমন হয় এবং স্বাধীনতার মানে বোঝাতেই এই উদ্যোগ। জীবন একটাই। বিপথে না-গিয়ে সকলে যেন সৎপথে থাকেন, এই বার্তা দেওয়াই লক্ষ্য।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১১:৫০
jail

গ্রাফিক: এআই সহায়তায় প্রণীত।

ঠিক কেমন হয় জেলের জীবন? জেলের খাবার খেতে কেমন? আর ওই কয়েদির পোশাক? সাধারণ নাগরিককে বন্দির ‘অনুভূতি’ দিতে অভিনব উদ্যোগ হায়দরাবাদের কারা কর্তৃপক্ষের। ২ হাজার টাকা খরচ করলে একরাত কাটানো যাবে জেলে!

Advertisement

সম্প্রতি চঞ্চলগুড়া সেন্ট্রাল জেল একটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছে। নাম ‘ফিল দ্য জেল’ (কারাবাস অনুভব করুন)। এই প্রকল্পে সাধারণ নাগরিকদের জন্য আলাদা করে তৈরি করা হয়েছে ‘সেল’। কারাজীবন উপলব্ধি করতে চাইলে যোগাযোগ করা যাবে। মানতে হবে কারাজীবনের রুটিন। মিলবে কয়েদির খাবার। কয়েদিরা যেমন পোশাক পান, তেমন পোশাক পরে কাটানো যাবে গোটা দিন। কারা কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, ২৪ ঘণ্টা কারাজীবনের অনুভূতি নিতে চাইলে খরচ পড়বে ২ হাজার টাকা। কেউ ১২ ঘণ্টাও জেলে কাটাতে পারেন। খরচ পড়বে হাজার টাকা।

কিন্তু এমন প্রকল্প আনার কারণ কী? হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল জেলের তরফে বলা হচ্ছে, বন্দিজীবন কেমন হয় এবং স্বাধীনতার মানে বোঝাতেই তাঁদের এই উদ্যোগ। জীবন একটাই। বিপথে না-গিয়ে সকলে যেন সৎপথে থাকেন, এই বার্তা দেওয়াই লক্ষ্য।

ইতিমধ্যে একটি জেল সংগ্রহশালার উদ্বোধন হয়েছে নিজ়ামের শহরে। সেখানে নিজ়ামের আমলে জেলযাত্রা থেকে আধুনিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা— কারাগারের বিবর্তন তুলে ধরা হয়েছে। ওই সংগ্রহশালায় আছে পুরোনো শেকল, কারাগারের পুরনো কক্ষের আদলে বানানো সেল। ভক্ত রামদাসু ও দশরথী কৃষ্ণমাচার্যুলুর মতো বন্দিদের কাহিনী, কারাগারের শিল্প, পুনর্বাসন কর্মসূচি এবং নাগার্জুন সাগর বাঁধ নির্মাণে বন্দিদের অবদানের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

এর আগে তেলঙ্গানায় সাঙ্গারেড্ডি হেরিটেজ প্রিজ়ন মিউজিয়ামের ‘একদিনের জেল অভিজ্ঞতা’ জনপ্রিয় হয়েছিল। সেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চঞ্চলগুড়া সাধারণ নাগরিকের জন্য কারাবাসের প্রকল্প এনেছে। দিন কয়েক আগে তেলঙ্গানার রাজ্যপাল শিবপ্রতাপ শুক্ল চঞ্চলগুড়ার স্টেট ইনস্টিটিউট অফ কারেকশনাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে নতুন মিউজ়িয়ামের সঙ্গে সঙ্গে ওই প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেছেন। সংশোধনাগারকে ‘সংস্কার এবং রূপান্তরের কেন্দ্র’ আখ্যা দিয়ে সে রাজ্যের রাজ্যপাল বলেছেন, ‘‘একটি প্রগতিশীল সমাজকে কেবল শাস্তির উপরে নয়, পুনর্বাসন এবং দ্বিতীয় সুযোগের উপরেও গুরুত্ব দিতে হবে।’’

কারা কর্তৃপক্ষ বলছেন, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হল আইন-শৃঙ্খলা এবং কারাগার ব্যবস্থা সম্পর্কে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি।

Advertisement
আরও পড়ুন