লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে আগুন। ছবি: সংগৃহীত।
লখনউয়ের এক কোচিং সেন্টারে আগুন। সোমবার দুপুরে আচমকাই ওই বিল্ডিংয়ে আগুন ধরে যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সময় ওই কোচিং সেন্টারে অনেক পড়ুয়া ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে কোচিং সেন্টারের দোতলা থেকে জালনা ভেঙে নীচে ঝাঁপ দেন। এই অগ্নিকাণ্ডে অন্তত বেশ কয়েক জনের মৃত্যুর আশঙ্কা। গুরুতর জখম আরও অনেকে। তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা সঙ্কটজনক। ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্যনাথ। কী ভাবে ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবার পিছু দু’লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, উত্তর-পূর্ব লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকায় রয়েছে ওই কোচিং সেন্টার। ওই কোচিং সেন্টারটি বিল্ডিংয়ের দোতলায়। নীচে পোষ্য জীবজন্তুর দোকান রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে পড়ুয়ারা দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়েন। কয়েকটি ভিডিয়ো ছড়িয়েছে। সেই সব ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, ওই বিল্ডিংটি দাউ দাউ করে জ্বলছে। অনেক পড়ুয়া দোতলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে নেমে পালাচ্ছেন। একটি ভিডিয়োয় দেখা যায়, এক পড়ুয়া দোতলার ভাঙা জালনা দিয়ে বেরিয়ে আসছে। তার পরে কার্নিশে পা দেন। সেখান থেকে ঝুলে থাকার চেষ্টা করেন। কিন্তু টাল সামলাতে পারেননি। নীচে পড়ে যান।
আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ এবং দমকল। চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে মানুষদের দ্রুত সরাতে শুরু করে পুলিশ। দমকলকর্মীরা প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। আগুনের তীব্রতা এতটাই যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয় দমকলকে। একে একে পড়ুয়াদের বাইরে বার করে আনেন দমকলকর্মীরা। ঘটনাস্থলে রয়েছে রাজ্য এবং জাতীয় উদ্ধারকারী দল। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছোন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। তিনি বলেন, ‘‘আমি নিজের চোখে ১২-১৩ জনের দেহ দেখেছি। সকলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঠিক কত জনের মৃত্যু হয়েছে তা পরে জানানো হবে। ভিতরে পুরো ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে।’’
জানা গিয়েছে, অনেকে আগুনে জখম হয়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কী ভাবে আগুন লাগল, তা স্পষ্ট নয়।