রাঁচী থেকে উড়ানের পরে ভেঙে পড়া বিমান। ছবি: পিটিআই।
রোগী, চালক এবং বিমানকর্মী-সহ সাত জনকে নিয়ে সোমবার রাতে ঝাড়খণ্ডে ভেঙে পড়ে একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। বিমান দুর্ঘটনায় সাত জনেরই মৃত্যু হয়েছে। রাঁচী থেকে ওড়ার পরে বিমানটি কী সমস্যার মুখে প়ড়েছিল, এ বার সেই প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ্যে আনল অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ামক সংস্থা ডিজিসিএ।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচী থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ‘রেডবার্ড এয়ারওয়েজ়’-এর ওই মেডিক্যাল চার্টার্ড বিমানটি। ওড়ার পরে কলকাতা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ করে বিমানটি। আবহাওয়াজনিত কারণে যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার অনুরোধও করে। এর পরে সন্ধ্যা ৭টা ৩৪ মিনিটে কলকাতা এটিসি-র সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বিমানটির। রেডার থেকেও হারিয়ে যায় ওই এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। উত্তরপ্রদেশের বারাণসী থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে শেষ বার বিমানটিকে দেখা গিয়েছিল রেডারে।
কী ভাবে এই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রাঁচী বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বিনোদ কুমার জানান, খারাপ আবহাওয়ার কারণেই সম্ভবত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত না-হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয়। কী ভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্তকারী সংস্থা এএআইবি-র প্রতিনিধিদলকে পাঠানো হচ্ছে দুর্ঘটনাস্থলে।
সোমবার রাতের এই দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বার করার জন্য একটি স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার জন্যও বলেছে তৃণমূল।
ঝাড়খণ্ডের ছাতরায় ভেঙে পড়া ওই বিমান থেকে উদ্ধার হওয়া সাতটি দেহই ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালে। নিহতদের ইতিমধ্যে শনাক্তও করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, ওই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ৪১ বছর বয়সি সঞ্জয় কুমারকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। দেহের ৬৩ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল তাঁর। উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঁচী থেকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাঁকে। এ ছাড়া বিমানে ছিলেন বিকাশকুমার গুপ্ত নামে এক চিকিৎসক, সচিনকুমার মিশ্র নামে এক প্যারামেডিক। তাঁদের সঙ্গে আরও দু’জন ছিলেন বিমানে— অর্চনা দেবী এবং ধীরু কুমার। বিমানটি ওড়াচ্ছিলেন সবরাজদীপ সিংহ এবং বিবেক বিকাশ ভগত। দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁদের সকলেরই।