অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনসভার সঙ্গে সম্পর্ক ও আলোচনা আরও ‘ঘনিষ্ঠ’ ভাবে করার লক্ষ্যে লোকসভার একাধিক সাংসদকে নির্বাচন করেছেন অধ্যক্ষ ওম বিড়লা। ভারত ইতিমধ্যেই ৬০টি দেশের সঙ্গে ‘সংসদীয় বন্ধুত্ব’ করেছে। সেই কূটনৈতিক বন্ধনের ‘সেতু’ হচ্ছেন সাংসদেরা। তালিকায় নাম রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রয়েছেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও। নাম রয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনেরও।
বিরোধীরা লোকসভার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যখন পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে সরব হয়ে তাঁর অপসারণের প্রস্তাব দিচ্ছেন তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তখনই এই সিদ্ধান্ত নিলেন অধ্যক্ষ। জানা গিয়েছে, বিভিন্ন দেশের কাছে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য মোট ৬৪টি প্যানেল তৈরি করা হবে। সেখানে থাকবেন বিরোধীরাও। প্রতিটি প্যানেলে ১১ জন করে সাংসদ থাকবেন। প্রত্যেকটি প্যানেলে অবশ্যই অন্তত এক জন মহিলা সাংসদ রাখতে হবে।
তৃণমূলের অভিষেক ও ডেরেক, কংগ্রেসের পি চিদম্বরম, কেসি বেনুগোপাল, গৌরব গগৈ, শশী তারুর ও সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, এআইএমআইএমের আসাদউদ্দিন ওয়াইসি, শিব সেনা (উদ্ধব ঠাকরে) দলের অরবিন্দ সওয়ন্ত, এনসিপি (শরদ পাওয়ার) দলের সুপ্রিয়া সুলে থাকবেন সাংসদদের বিভিন্ন প্যানেলের নেতৃত্বের ভূমিকায়। পর্তুগালের জন্য নির্দিষ্ট কমিটির নেতৃত্ব দেবেন বেনুগোপাল। ইতালির জন্য গঠিত কমিটির নেতৃত্ব দেবেন চিদম্বরম, ফিলিপিন্স প্যানেলের নেতৃত্বে থাকছেন গগৈ। অনুরাগ ঠাকুর, নিশিকান্ত দুবে, রবি শঙ্কর প্রসাদ, বৈজয়ন্ত পন্ডা-সহ ৩০ জন বিজেপি সাংসদ থাকবেন বিভিন্ন প্যানেলের চেয়ারপার্সনের ভূমিকায়। জানা গিয়েছে, রবিশঙ্কর, নিশিকান্ত, বৈজয়ন্ত ও অনুরাগ যথাক্রমে নেতৃত্ব দেবেন ইজ়রায়েল, রাশিয়া, আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের জন্য গঠিত কমিটির। অখিলেশ নেতৃত্ব দেবেন অস্ট্রেলিয়া সংক্রান্ত কমিটির।
বাজেট অধিবেশনে বরখাস্ত হওয়া সাংসদেরাও আছেন বিভিন্ন প্যানেলে। কংগ্রেসের প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, কিরণ কুমার রেড্ডি, মনিকম টেগোর, গুরজিৎ সিংহ আউজলা সদস্য হিসাবে থাকছেন জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইতালির প্যানেলে। সিপিএমের এস ভেঙ্কটেশন থাকছেন কিউবা প্যানেলে।
জানা গিয়েছে সংসদীয়, আইন ও কূটনীতি ছাড়াও প্রযুক্তি, বাণিজ্য, সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশ্বের কাছে প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতের নির্বাচিত এই সাংসদেরা।