West Bengal Election 2026

রেওয়াজ ভেঙে ভোটের সকালে বুথে বুথে ঘুরছেন মমতা, ববির পাড়া দিয়ে শুরু! ‘ঠেলায় পড়ে’ বলে খোঁচা মারলেন শুভেন্দু

দ্বিতীয় দফার ভোটে সকলের নজরই ভবানীপুরের দিকে। এই কেন্দ্রে লড়াই মমতা বনাম শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। শুভেন্দুও সকাল হতেই বেরিয়ে পড়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৩৪
candidate Mamata Banerjee from Bhabanipur went out to inspect the booth on the morning of the election

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

সকাল সকাল ভোটের দিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, সারা দিন তিনি রাস্তাতেই থাকবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নন, থাকবেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে। সোমবার রাতে বিদায়ী মন্ত্রী তথা কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পুলিশ পর্যবেক্ষকের যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভপ্রকাশ করেন মমতা। একই সঙ্গে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

Advertisement

দ্বিতীয় দফার ভোটে সকলের নজরই ভবানীপুরের দিকে। এই কেন্দ্রে লড়াই মমতা বনাম শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। শুভেন্দুও সকাল থেকেই বেরিয়ে পড়েছেন। বুথে পরিদর্শন শুরু করেছেন তিনি। মমতাও একই উদ্দেশ্যে সকালেই কালীঘাটের বাড়ি থেকে বার হন। প্রথমেই যান চেতলা এলাকায়। তার পরে পদ্মপুকুর রোড ধরে এগিয়ে যান। মাঝপথে যেতে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন একটি বুথের সামনে। গাড়ি থেকে নেমে বুথ পরিদর্শন করেন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী। ভোটের সকালে মমতার এই বুথ পরিদর্শন নিয়ে খোঁচা দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, ঠেলায় পড়েই ভোটের সকালে বেরিয়েছেন মমতা। বিরোধী দলনেতার কটাক্ষ, ‘‘ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না।’’

চেতলা এলাকায় গিয়ে ফিরহাদের সঙ্গে দেখা করেন মমতা। তাঁর সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথা বলেন তিনি। তার পরে সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি দিনভর নিজের কেন্দ্রেই থাকবেন। ঘুরবেন বুথে বুথে। মমতার কথায়, ‘‘ববির স্ত্রী ছিল। মাঝরাতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে। মহিলারা আতঙ্কিত!’’

সাধারণত ভোটের দিন সকালের দিকে বাড়িতেই থাকেন মমতা। বাড়ি থেকেই ভোট সংক্রান্ত খবরাখবর রাখেন। তার পরে বেলা গড়ালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে যান ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে। সেখাকার বুথেই ভোট দেন তিনি। তবে বুধবার অন্য ছবি দেখল পশ্চিমবঙ্গ। রেওয়াজ ভেঙে ভোটের দিন সকালেই বুথ পরিদর্শনে মমতা। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘রাজ্যের বাইরে থেকে বেশ কয়েক জন পর্যবেক্ষক এসেছেন। তারা বিজেপির নির্দেশে কাজ করছেন।’’ তাঁর কথায়, ‘‘নির্বাচন কমিশন প্রকাশ্যে আমাদের হয়রানি করছে। আদালতের নির্দেশ মানছে না। আমরা আদালত অবমাননার নোটিস পাঠিয়েছি, তবুও এখানে অসংখ্য বহিরাগত পর্যবেক্ষককে আনা হয়েছে।’’ তিনি অভিযোগ করেন, বাইরে থেকে আসা পর্যবেক্ষকেরা ভোটারদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়ানো ছাড়া আর কিছুই করছে না।

মমতা প্রশ্ন তোলেন, এটা মানুষের ভোট। কিন্তু এ ভাবে কি ভোটগ্রহণ হতে পারে? তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের সব পতাকা খুলে ফেলা হচ্ছে। বহিরাগতেরা এসে তাঁর কেন্দ্রে এই সব কাজ করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর আরও অভিযোগ, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরকে বার হতে দেওয়া হচ্ছে না। পরে দেখা যায় তিনি ওই ওয়ার্ডে যান। দেখা করেন ওই কাউন্সিলরের সঙ্গে। মমতার অভিযোগ, ‘‘আমাদের সব ছেলেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সারা রাত আমি আর অভিষেক (বন্দ্যোপাধ্যায়) জেগে ছিলাম।’’ মমতার অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এসে ভবানীপুরে সন্ত্রাস চালাচ্ছে। সকাল ৯টা নাগাদ তিনি চক্রবেড়িয়ার একটি বুথে যান। বাইরে বসে নজরদারি করেছেন মমতা। কথা বলছেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে। অভিযোগ, ওই এলাকাতেই তৃণমূলের পতাকা ছেঁড়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দলের সর্বময় নেত্রী মমতার জন্য তৃণমূলের প্রস্তুতিও চরমে। তৃণমূল সূত্রে খবর ছিল, মঙ্গলবার মমতা কালীঘাটের বাড়ি থেকে সব কিছুর উপর নজর রেখেছিলেন। সারা দিন ভোট সংক্রান্ত প্রস্তুতির খবর শীর্ষ নেতাদের মারফত নিয়েছিলেন তিনি। ঠিক ছিল, বুধবার সারা দিনের ভোট পর্যবেক্ষণ করে ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে বিকালে ভোট দিতে যাবেন তিনি। তবে সেই রেওয়াজ ভাঙলেন মমতা। বাড়ি বসে নয়, বুথে ঘুরে ঘুরে ভোট পর্যবেক্ষণ করবেন তৃণমূলনেত্রী।

Advertisement
আরও পড়ুন