১০০ কোটি টাকার সাইবার প্রতারণার ঘটনায় সাত জনকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত।
ভুয়ো সিম বক্স নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে গ্রাহকদের ১০০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন! তদন্তে নেমে এ বার সেই আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িত সাত জনকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ। উদ্ধার হল কয়েক হাজার ভুয়ো সিমকার্ডও!
শনিবার অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস (আইএফএসও) ইউনিট। ধৃতদের নাম সরবজিৎ সিংহ, জসপ্রীত কৌর, দীনেশ এবং আবদুল সালাহ। এ ছাড়াও আরও তিন জনকে ধরা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক জন তাইওয়ানের নাগরিক। তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতেরা সকলেই প্রযুক্তিতে পারদর্শী ছিলেন। অবৈধ সিম বক্স ব্যবহার করে দূর থেকে একাধিক সিমকার্ড পরিচালনা করতেন তাঁরা। তার পর সেই সিমকার্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন গ্রাহককে ফোন করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলতেন। এ ভাবে ১০০ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছিলেন অভিযুক্তেরা। শুধু তা-ই নয়, এই চক্রের সঙ্গে চিন, নেপাল, কম্বোডিয়া, তাইওয়ান এবং পাকিস্তানের নানা সাইবার প্রতারণা চক্রের যোগাযোগ ছিল বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি একের পর এক প্রতারণার খবর পেয়ে তৎপর হন তদন্তকারীরা। পুলিশের সাইবার অপরাধ দমন শাখা এবং টেলিযোগাযোগ বিভাগের মোট ২৫ জন কর্তাকে নিয়ে একটি দল গড়ে তদন্ত শুরু হয়। আইএফএসও-এর ডিসিপি বিনীত কুমার জানিয়েছেন, প্রথমে শশী প্রসাদ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর ভাড়ার ঘর থেকেই উদ্ধার হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল এবং সিমকার্ডগুলি। শশীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পারমিন্দর সিংহ এবং সুং চেন নামে দু’জনের খোঁজ পায় পুলিশ। দু’জনেই দিল্লি এবং মোহালিতে সিম বক্স পরিচালনার কাজ করতেন। সিম বক্স হল একটি ডিভাইস যার সাহায্যে একাধিক সিম কিংবা ই-সিম দূর থেকে পরিচালনা করা যায়। সাইবার প্রতারণার কাজে ফোনের অপরপ্রান্তে থাকা ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখতে এটি ব্যবহার করা হয়। দিল্লি, মুম্বই, কোয়ম্বত্তূর এবং মোহালি থেকে সেই সিমবক্সগুলি উদ্ধার করে পুলিশ। ২০,০০০টি ই-সিম এবং ১২০টি সিমকার্ডও বাজেয়াপ্ত করা হয়।