Ghaziabad Triple Suicide

১০ তলা থেকে ঝাঁপ: ‘কে-ড্রামা’ দেখার নেশা ছিল তিন বোনের! সমাজমাধ্যমের হ্যান্ডলও ছিল কোরিয়ান নামের অনুকরণে

উত্তরপ্রদেশের ওই ঘটনায় তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে একটি ছোট পকেট ডায়েরি উদ্ধার করেছেন। সেই ডায়েরির মধ্যেই আট পাতার নোট লেখা ছিল, যার শিরোনামে রয়েছে ‘জীবনের সত্য কাহিনি’।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৭
Ghaziabad Teenagers death case unfolds fresh details on the mystery

মঙ্গলবার রাতে গাজ়িয়াবাদের এক আবাসনের ১০তলা থেকে ঝাঁপ দেয় তিন বোন। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট ছিল গাজ়িয়াবাদে মৃত তিন বোন। দক্ষিণ কোরিয়ার টেলিভিশন সিরিয়াল (যা তরুণ প্রজন্ম বা জেন জ়ি-দের কাছে ‘কে ড্রামা’ নামেই অধিক পরিচিত) দেখার নেশা ছিল তাদের। সূত্র মারফত এমনটাই জানা যাচ্ছে। তিন বোন নিজেদের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলেরও নাম রেখেছিল কোরিয়ান নামের অনুকরণে।

Advertisement

মঙ্গলবার রাতে গাজ়িয়াবাদের এক আবাসনের ১০তলা থেকে ঝাঁপ দেয় তিন বোন। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, আত্মহত্যাই করেছে তারা। তবে ঠিক কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, তিন বোন কোরিয়ান সংস্কৃতির প্রতি যথেষ্ট আকৃষ্ট ছিল। অনলাইনে গেম নিয়ে যেমন বাবা-মায়ের বকুনি খেতে হত, তেমনই সারাক্ষণ ‘কে-ড্রামা’ দেখা নিয়েও বকুনি খেত তিন বোন। পুলিশ সূত্র উদ্ধৃত করে এনডিটিভি জানাচ্ছে, মেয়েদের এই অভ্যাস বন্ধ করতে বাবা তাদের মোবাইল কেড়ে নিয়েছিলেন। তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। কে ড্রামা দেখতে না পেরে ভেঙে পড়েছিল তিন বোন।

পুলিশ সূত্রে খবর, তিন বোন সমাজমাধ্যমেও কোরিয়ান নামের অনুকরণে নিজেদের প্রোফাইলের নাম ঠিক করেছিল। তাদের সমাজমাধ্যম হ্যান্ডলের নাম ছিল— মারিয়া, আলিজ়া এবং সিন্ডি। দিন দশেক আগেই এই হ্যান্ডলগুলি তাদের বাবার নজরে আসে। তখনই তিনি তিন বোনের কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেন এবং ওই অ্যাকাউন্টগুলি ডিলিট করে দেন।

উত্তরপ্রদেশের ওই ঘটনায় তদন্তকারীরা ইতিমধ্যে একটি ছোট পকেট ডায়েরি উদ্ধার করেছেন। সেই ডায়েরির মধ্যেই আট পাতার নোট লেখা ছিল, যার শিরোনামে রয়েছে ‘জীবনের সত্য কাহিনি’। শিরোনামের শেষে একটি ছোট মনখারাপের ইমোজি-ও আঁকা ছিল। পুলিশের অনুমান, দশতলা থেকে ঝাঁপ দেওয়ার ঠিক আগেই এই নোটটি লিখেছিল তারা। হিন্দি এবং ইংরেজি মিশ্রণে ওই নোট লেখা ছিল, “এই ডায়েরিতে যা লেখা আছে, সব পড়ো। কারণ, এটাই সত্যি। এখনই পড়ো! আমরা সত্যিই দুঃখিত। দুঃখিত, বাবা।”

সূত্রের খবর, তিন নাবালিকা কোনও এক কোরিয়ান গেমের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছিল। ওই টাস্ক-বেস্‌ড কোরিয়ান গেমেই (যে গেমগুলি খেলার সময়ে গেমের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের কাজ করতে হয় এবং তার ভিত্তিতে লেভেল বৃদ্ধি পায়) মজে থাকত তারা। জানা যাচ্ছে, তারা ওই গেমের প্রতি এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছিল যে, একে অন্যকে বিভিন্ন কোরিয়ান নামেও ডাকতে শুরু করেছিল। সুইসাইড নোট থেকে এই আসক্তি আরও স্পষ্ট হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল, “আমরা কোরিয়া ছাড়তে পারব না। কোরিয়াই আমাদের জীবন। তুমি আমাদের এর থেকে আলাদা করতে পারবে না। আমরা আমাদের জীবন শেষ করে দিচ্ছি।”

Advertisement
আরও পড়ুন