—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আর্থিক লেনদেনে যুক্ত সমস্ত ধরনের অনলাইন গেমিং নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অনেক নিরাপদ হয়েছে বলে দাবি করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বুধবার সংসদে কেন্দ্র জানিয়েছে, ‘খসড়া অনলাইন গেমিং নিয়মাবলী, ২০২৫’ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে বুধবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগন লোকসভায় এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, ‘‘সরকার দেশজুড়ে একটি নিরাপদ, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিমূলক ‘অনলাইন গেমিং ইকোসিস্টেম’ চালু করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে, সরকার অনলাইন গেমিং প্রচার এবং নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৫ (গেমিং অ্যাক্ট) প্রণয়ন করেছে, যার উদ্দেশ্য ই-স্পোর্টস এবং অনলাইন সামাজিক গেমগুলিতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং টাকার বিনিময়ে অনলাইন গেমগুলিকে নিষিদ্ধ করা।’’
গত বছর বাদল অধিবেশনে ‘দ্য প্রমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫’ নামের নামের বিল পাশ করিয়েছিল মোদী সরকার। তাতে আর্থিক লেনদেনে যুক্ত অনলাইন গেমের প্রচারের উপরে জরিমানা বসানোর বন্দোবস্ত রয়েছে। এর ফলে ‘নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ’ সৃষ্টির পথে বাধা দূর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে। নতুন আইনে ‘গেমিং অ্যাক্ট’ লঙ্ঘনের জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারণ করেছে। টাকার বিনিময়ে অনলাইন গেম খেলার প্রস্তাব দেওয়া বা এর জন্য আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থাপনায় জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ তিন বছরের জেল বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় সাজার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় বার অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৩ বছরের কারাদণ্ড (যা ৫ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে) এবং ন্যূনতম এক কোটি টাকা জরিমানার (যা দুই কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে) সাজার ব্যবস্থা রয়েছে। অনলাইন মানি গেমের বিজ্ঞাপন দেওয়া হলে সর্বোচ্চ দু’বছরের জেল বা ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ড রয়েছে নতুন আইনে। দ্বিতীয় অপারাধের ক্ষেত্রে ন্যূনতম দু’বছরের কারাদণ্ড (যা ৩ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে) এবং ন্যূনতম ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা (যা এক কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে) সাজার ব্যবস্থা রয়েছে। নতুন আইনে। জাতীয় পর্যায়ের অনলাইন গেমিং, একটি গেম ‘মানি গেম’ (টকারা বিনিময়ে খেলা) কি না তা নির্ধারণ, আচরণবিধি জারি এবং জনসাধারণের অভিযোগের সুরাহার জন্য দায়ী থাকবে।